শেরপুরের শ্রীবরদীতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে চিনি, আটা ও রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আখের গুড়। উপজেলার কুরুয়া বাজার এলাকায় দুটি নামমাত্র কারখানায় ওই আখের গুড় তৈরি করা হচ্ছে। কোন অনুমোদন ছাড়াই নিজ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে গুড় তৈরির কারখানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব ভেজাল গুড় শেরপুর জেলাসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
জানা যায়, কুরুয়া বাজারের উত্তরে অবস্থিত মেসার্স মুক্তার এন্টারপ্রাইজ নামে জনৈক আজিজুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া অনুমোদনহীন গুড়ের কারখানা দীর্ঘদিন যাবত পরিচালনা করে যাচ্ছেন। চিনি, ময়দা, নালি, রং ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপকরণ মিশিয়ে কাঁচা স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল আখের গুড়। গুড় তৈরির মূল উপাদান হিসাবে যে আখের রস প্রয়োজন হয়, সেই রসের কোন অস্তিত্বই থাকে না এই গুড়ে। ফলে এটি গুড় না হয়ে হচ্ছে বিষাক্ত খাদ্যদ্রব্য।

এছাড়াও, ড্রাম ও কন্টেইনারের ভিতর দীর্ঘদিন যাবত রেখে দেওয়া নালি ব্যবহার করা হচ্ছে গুড় তৈরির ক্ষেত্রে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
আরও পড়ুন: দুই কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
আজিজুর রহমান ওরফে আঙ্গুরের গুড় কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ছানুয়ার হোসেন (৪০) বলেন, আমরা এখানে শ্রমিক হিসাবে কাজ করি। কি দিয়ে গুড় তৈরি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান চিনি, নালী, ময়দা মিশিয়ে এ সব গুড় তৈরি করা হয়।

আজিজুর রহমান আঙ্গুর মিয়া বলেন, শেরপুর সিভিল সার্জন অফিস থেকে অনুমোদন নিয়েছি। চিনি ও ময়দা মিয়ে ভেজার গুড় কেন তৈরি করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর এ.কে.এম মাসুদুর রহমান বলেন, কারখানাগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আক্তার বলেন, খাদ্যে ভেজাল একটি মারাত্মক অপরাধ। খাদ্যে ভেজাল দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অতি দ্রুত কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
