লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সেচখালে পানির তীব্র সংকটে চলতি মৌসুমের বোরো ধান চাষে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পানির অভাবে কোথাও ধানের চারা লাল হয়ে পুড়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও চাষকৃত জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক। স্থানীয়রা অবিলম্বে খাল পুনঃখনন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালে অবৈধ স্থাপনা, কালভার্ট ও অপসারণ না করা বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বাধা অপসারণে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
অন্যদিকে সেচ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিকল্প উৎস ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। দ্রুত সেচ সংকট নিরসন না হলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে পানি সংকটের সমাধান এখন সময়ের দাবি।

রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর, চন্ডিপুর, লামচর ও পৌর শহরের কয়েকটি এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত খাল পুনঃখনন ও বিকল্প সেচব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে এবং রামগঞ্জ উপজেলায় ৯ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পানির অভাবে অন্তত ১২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্ভব হয়নি। আবাদ হওয়া জমিতেও তীব্র পানি সংকট চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে দ্রুত সেচ সমস্যার সমাধান না হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা সেচখালে পানির তীব্র সংকটে বোরো ধান চাষ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খালে পানি না থাকায় অনেক জমিতে চারা রোপণ বন্ধ রয়েছে, আবার কোথাও রোপণ করা চারা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উত্তর চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার প্রায় ৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে খালে কিছু পানি ছিল, সেই পানি দিয়ে কোনোভাবে চারা লাগাইছি। এখন খালে একেবারেই পানি নাই। চারা বাঁচাইয়া রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত পানি না পাইলে পুরো জমির ধান নষ্ট হইয়া যাইবো।
পশ্চিম চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আমি ৪ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করছি। সার-বীজ কিনতে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হইছে। এখন যদি সময়মতো সেচের পানি না পাই, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হইবো। ঋণের টাকাও শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।
শিবপুর-ইছাপুর এলাকার কৃষক মঙ্গল গাজী বলেন, প্রায় ২ বিঘা জমি প্রস্তুত করে রাখছি বোরো রোপণের জন্য। কিন্তু খালে পানি না থাকায় এখনো রোপণ করতে পারতেছি না। সময় চলে গেলে ফলন কমে যাবে, তখন আমাদের লোকসান গুনতে হবে।
একই এলাকার কৃষক শাহনেওয়াজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খালগুলো দ্রুত পুনঃখনন করে সেচের পানি নিশ্চিত না করলে অনেক কৃষক পথে বসে যাবে। আমরা ধার-দেনা করে চাষ করি। পানি না থাকলে সব খরচ ডুববে, পরিবার নিয়ে বিপদে পড়তে হবে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত খাল পুনঃখনন, অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে চলতি বোরো মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চন্ডিপুর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের বিকল্প সেচ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাব্বির আহম্মদ সিফাত বলেন, সেচ সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, চাঁদপুর সেচ প্রকল্প থেকে লক্ষ্মীপুরে পানি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ফসল উৎপাদনের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। রায়পুর অংশের মেঘনা নদীর অপেক্ষাকৃত মিষ্টি পানি খালের মাধ্যমে আনার প্রকল্প নেওয়া গেলে বোরো আবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা উপকৃত হবেন।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান জানান, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতায় রামগঞ্জ ও রায়পুরে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার খালে সেচ সুবিধা দেওয়া হলেও ১৯৭৮ সালে স্থাপিত বাগাতি পাম্প হাউজের পাম্পগুলোর কার্যক্ষমতা কমে বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে। ফলে আগের তুলনায় পানি উত্তোলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এছাড়া খালে অবৈধ স্থাপনা, কালভার্ট ও অপসারণ না করা বাঁধের কারণেও পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মৌলভীবাজারে গভীর রাতে সড়কে ঝরলো তিন প্রাণ
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের ছয় নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়া বাইপাসে ট্রাক-সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত পাঁচ