রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ঐতিহাসিক মহা বারুণী স্নান। মঙ্গলবার ভোর থেকেই প্রাগৈতিহাসিক তীর্থস্থান শ্রী শ্রী মাতা সীতা মন্দির সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর তীরে ঢল নামে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীর।
ভোরের আলো ফুটতেই কর্ণফুলী নদীর শীতল জলে পুণ্য অর্জনের আশায় ভিড় জমান হাজারো ভক্ত। চট্টগ্রামের পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া কিংবা পাহাড়ের দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে কাপ্তাইয়ের ঐতিহাসিক সীতাঘাট।

মহা বারুণী স্নান শেষে ভক্তরা মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা-অর্চনা করেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ, ঐতিহ্যবাহী সীতামেলা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ।
পুণ্যার্থীরা জানান, এই প্রাচীন তীর্থস্থানে এসে তারা কেবল ধর্মীয় আচারই পালন করছেন না, বরং প্রকৃতির কাছাকাছি এক আত্মিক শান্তি খুঁজে পাচ্ছেন।
কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই আয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এটি রূপ নেয় এক অনন্য সম্প্রীতির মিলনমেলায়।মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী সমলেন্দু বিকাশ দাশের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।
প্রধান অতিথি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই আজকের এই বিশাল উপস্থিতি। কাপ্তাইয়ের এই ঐতিহাসিক সীতা মন্দির আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য বাবু দয়াল দাশসহ ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উৎসবকে ঘিরে প্রশাসন থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পার্বত্য জনপদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বাড়ির পথে মানুষের ঢল, কমলাপুরে স্বস্তির রেলযাত্রা
উত্তরের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও নেই ভোগান্তি