চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া না দেওয়ার আহবান জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিংয়ের শেষ অংশে কর্ণফুলী থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ভুলভাবে এই প্রচার করা হয়েছে। পরে তা সংশোধনও করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি ও জার্সি পরা এক যুবক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন- পরিচিত ভাড়াটিয়া না হলে এবং সঠিক কাগজপত্র ছাড়া কাউকে যেন বাসা ভাড়া দেওয়া না হয়।
একই সঙ্গে তিনি নিষিদ্ধ কোনো দলের নেতাকর্মীদের কাউকে বাড়ি ভাড়া না দেওয়ার আহবান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, নির্দেশনা অমান্য করলে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘোষণার শেষ অংশে তাকে কর্ণফুলী থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করতে শোনা যায়।

মাইকিং করা ওই যুবকের নাম পারভেজ। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সাধারণ ভাড়াটিয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনের নামে তাদের ওপরও এমন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার অপারেশন অফিসার মিজানুর রহমান জানান, সিটিজেন ফোরামের এক বৈঠকে ভাড়াটিয়াদের যাচাই-বাছাই করে ঘর ভাড়া দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো। তবে মাইকিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অতিরিক্ত কথা বলেছেন।
অন্যদিকে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, আমরা কখনও এ ধরনের নির্দেশ দিইনি। এটি ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশোধনও করা হয়েছে।
তবে রাত সাড়ে আটটার দিকে কর্ণফুলী থানা সিএমপি চট্টগ্রামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, কর্ণফুলী থানা এলাকায় নতুন ভাড়াটিয়া, বিশেষ করে সিঙ্গেল ব্যাচেলর যুবকদের বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্য কাগজপত্র থানায় জমা দিতে হবে। পরিচয়পত্র জমা ছাড়া কোনো ভাড়াটিয়া রাখা যাবে না। বাসা ভাড়া নিয়ে কেউ কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে বাড়ির মালিককেও দায় নিতে হবে।
