পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মধ্যরাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে অন্তত এক হাজার ১৮০টি ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগমুহূর্তে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েকশ পরিবার।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে একটা দিকে হঠাৎ তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়, যা প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বাতাসের তোড়ে বসতঘর, দোকানপাট ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। অনেক স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং টিনের ছাউনি উড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান ফকির সেই রাতের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ঝড়ের সময় কিছুই বুঝে ওঠার সুযোগ পাইনি। আমার বসতঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। ঈদের আগে এমন ক্ষতিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
ঝড়ের সময় বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাতভর অন্ধকারে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র দেবনাথ জানান, জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৮০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির এই বিস্তারিত তথ্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
