চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বাঘ ‘রাজ’ ও বাঘিনী ‘পরী’র ঘরে জন্ম নিয়েছে দুটি শাবক। নতুন এই দুই শাবক নিয়ে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা হলো ১৯টি। যা দেশের চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এসব বাঘের কল্যাণে প্রাণী প্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট্ট বাঘের ছানা দুটি কখনো মায়ের পিছু পিছু হাঁটছে, কখনো মায়ের লেজ নিয়ে করছে দুষ্টুমি, কখনো বা এই গরমে গামলায় রাখা পানিতে শীতল করছে নিজেদের। সম্প্রতি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বাঘ ‘রাজ ও বাঘিনী ‘পরী’র ঘরে জন্ম নেয় এ দুটি শাবক।
চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা এখন ১৯টি, যা দেশের চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এরমধ্যে রয়েছে বিরল প্রজাতির পাঁচটি সাদা বাঘ। আর বাঘের আকর্ষণেই চট্টগ্রামের বাইরে থেকেও এই চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন অনেকে।
দর্শনার্থী বলছেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন তেমন বাঘের দেখা যায় না। তাই চিড়িয়াখানায় বাঘ দেখতে আসছেন অনেকেই।
২০১৬ সালে ৩৩ লাখ টাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিড়িয়াখানায় আনা হয় এক জোড়া বাঘ। সেই বাঘ দম্পতির নাম দেয়া হয় ‘রাজ’ ও ‘পরী’। উপযোগী পরিবেশ ও যত্নের সুবাদে গত আট বছরে এখানে বাঘের প্রজননের হারও বেড়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহদাত হোসেন শুভ বলেন, ২০১৮ সালে বাঘটি প্রথম বাচ্চা দেয়। জন্ম নেয় একটি সাদা বাঘ। তারপরে ধারাবাহিকভাবে চলতি মাসের ৯ তারিখ দুটো বাঘের বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে।
চিড়িয়াখানার বাঘ পরিচর্যাকারী জানান, বাঘ শাবকের বয়স ১ মাস পেরুলেই তাকে খাবারের জন্য মাংস দেয়া হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ১৯টি বাঘের জন্য বরাদ্দ ৭৫ কেজি মাংস।
প্রধান বাঘ পরিচর্যাকারী আরিফ হোসেন জানান, বাঘকে প্রতিদিন মুরগী দেয়া হয়। মাসে একদিন দেয়া হয় গরুর মাংস। চাহিদা ও বয়স অনুযায়ী ভাগ হয় মাংসের পরিমাণ। গড়ে ৬ থেকে ৭ কেজি মাংস পায় প্রতিটি বড় বাঘ। ছোট বাঘ পায় ৪ থেকে ৫ কেজি।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়া বাঘের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ২০২৩ সালে দু’টি বাঘ দিয়ে প্রাণী বিনিময়ের আওতায় ঢাকা থেকে এক জোড়া জলহস্তী আনা হয়েছিলো।
হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ