রাত সাড়ে ১১টায় মেয়েটাকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছি এক কাপড়ে। শুধু দেহটা নিয়ে এসেছি। কিছুই বের করতে পারিনি। মাটির ঘর ছিলো, সব ভেসে গেছে। আর্তনাদ করে কথাগুলো বলছিলেন গোমতীর বাঁধ ভেঙে আশ্রয়হীন হয়ে পড়া ঝিনুক রানী সাহা।
ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গোটা বুড়িচং উপজেলাই তলিয়ে গেছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষ বিশুদ্ধ পানি আর খাবার সংকটের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বাড়ি হারিয়েছেন সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়াও। প্রতিবেদককে দেখেই বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জানান, বাবা-দাদার ভিটে-বাড়ি সব এখন পানির নিচে। কোনোভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে বুড়িচং উপজেলার মহিষমাড়া উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে এমন প্রায় ৫০০ মানুষের দেখা মেলে। যাদের সবার বসতভিটা গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যার স্রোতে তলিয়ে গেছে।
আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই না খেয়ে আছেন অনেকে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন কিছু শুকনো খাবার নিয়ে এলেও তা পর্যাপ্ত ছিলো না। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মহিষমাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ওই আশ্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা রশিদ বলেন, এখানে ৫০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ ভয়ে, আতঙ্ক আর চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্কুলের দোতলা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। তাই সবাই তিন এবং চার তলায় আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
দুপুরে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার জানান, ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে অনুদান পাঠানোর আহ্বান
বন্যার্তদের সহযোগিতায় এক দিনের বেতন দিলো সেনাবাহিনী
পানি ছাড়ার আগে ভারতকে জানানোর বার্তা দেওয়া হবে: উপদেষ্টা