ফেনীতে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক তরুণ মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি এক দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে ঠিক কোন এলাকায় তিনি ওই দুর্ঘটনার শিকার হন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায় নাই।
ওই তরুণের নাম সাইফুল ইসলাম সাগর। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামের আলিমুদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যা মিয়ার ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি সাগর থাকতেন চট্টগ্রামে।
শুক্রবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইউনুস এই তথ্য জানান।
ইউনুস জানান, বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারে সাগরের চট্টগ্রামের বন্ধু/সহকর্মীরা উদ্যোগ নেয়। তারা বৃহস্পতিবার ফেনীতে আসে। সেখানে তিনি ডুবে মারা যান। সাগরের মরদেহ এখনও বাড়িতে আনা হয়নি।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন ইসলাম জানান, মোবাইলে বিষয়টি জানতে পেরেছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানা নেই। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে ফেনীর বাসিন্দারা। বন্যা আরও কয়েক দিন দীর্ঘ হলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
ফেনী শহরের বিভিন্ন বয়সের মানুষের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা জানান, গত ৫০-৬০ বছরে জেলায় এতো ভয়াবহ বন্যা হয়নি। এমনকি ১৯৮৮ সালের বন্যায় পুরো জেলায় এমন প্লাবিত হয়নি।
তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে ফেনীর বাসিন্দারা, নেই মোবাইল নেটওয়ার্কও। এতে পরিবার-পরিজন কোথায় আছে, কেমন আছে, সেই খবরটুকুও নিতে পারছেন না অনেকে। পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়ায় কোনো যান চলাচল করতে পারছে না। পানির কারণে বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মুহুরি, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সবগুলো ভাঙনের স্থান দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে ডুবছে একের পর এক জনপদ। এতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুর্যোগ মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানিয়েছে, ২০ আগস্ট থেকে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ১১ জেলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৯ পরিবার।
বন্যায় মৃত বেড়ে ১৫, পানিবন্দি ১০ লাখ পরিবার