কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রকাশ্যে দিনের বেলা গাছগুলো কেটে ফেলা হলেও চুরির মামলা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে শাস্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। স্থগিত করা হয়েছে তার দলীয় সব পদ।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদি হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আঙ্গুর মিয়া নামে একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
একই দিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘কিশোরগঞ্জ জেলাধীন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর এর বিরুদ্ধে কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধে রোপণকৃত প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কেটে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি নিজ গাড়ি নিয়ে তার বাড়ি যাওয়ার পথ সুগম করার লক্ষে এধরণের অন্যায় ও নিন্দনীয় কাজটি করেছেন-যা দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।’
‘সুতরাং এধরণের গর্হিত কাজের জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলাধীন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর এর বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কাটবো কেন? জায়গা ও গাছগুলো সরকারি না। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ সরকারি না, অধিগ্রহণকৃতও না।
উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আঙ্গুর মিয়া নামে এক ব্যক্তি গাছগুলো ‘স’ মিলে নিয়ে এসেছিলেন। তাই তাকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছি।
দিনের বেলায় গাছ কেটে নেওয়া হলেও চুরির অভিযোগে মামলা কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা নাই। তারাই (পুলিশ) তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লিয়াকত আলী জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য থাকাকালীন এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে এই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই গাছগুলো এলাকার পরিবেশ ও বাঁধ রক্ষায় বড়ো ভূমিকা রেখে আসছিলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় গত পাঁচ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়, যার খবর অনেক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলা হয় এবং পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
