রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনা এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবার পরিচয় জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ এবং বাসের চালকও রয়েছেন।
মৃতদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা সবথেকে বেশি। নিহতরা হলেন—
- রেহেনা আক্তার (৬১): স্বামী- মৃত ইসমাইল হোসেন খান, ভবানীপুর, রাজবাড়ী।
- মর্জিনা খাতুন (৫৬): স্বামী- মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মজমপুর, কুষ্টিয়া।
- রাজীব বিশ্বাস (২৮): পিতা- হিমাংশু বিশ্বাস, খাগড়বাড়ীয়া, কুষ্টিয়া।
- জহুরা অন্তি (২৭): পিতা- মৃত ডা. আবদুল আলীম, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী।
- কাজী সাইফ (৩০): পিতা- কাজী মুকুল, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী।
- মর্জিনা আক্তার (৩২): স্বামী- রেজাউল করিম, চর বারকিপাড়া, গোয়ালন্দ।
- ইস্রাফিল (৩): পিতা- দেলোয়ার হোসেন, খোকসা, কুষ্টিয়া।
- সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২): পিতা- রেজাউল করিম, গোয়ালন্দ।
- ফাইজ শাহানূর (১১): পিতা- বিল্লাল হোসেন, কালুখালী, রাজবাড়ী।
- তাজবিদ (৭): পিতা- কেবিএম মুসাব্বির, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী।
- আরমান খান (৩১): পিতা- আরব খান, বালিয়াকান্দি। (তিনি বাসের চালক ছিলেন)।
- জেসমিন (৩০): স্বামী- আব্দুল আজিজ, কালুখালী, রাজবাড়ী।
- লিমা আক্তার (২৬): পিতা- সোবাহান মন্ডল, রাজবাড়ী সদর।
- জোসনা (৩৫): স্বামী- মান্নান মন্ডল, রাজবাড়ী সদর।
- মুক্তা খানম (৩৮): স্বামী- মৃত জাহাঙ্গীর আলম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।
- নাছিমা (৪০): স্বামী- মৃত নূর ইসলাম, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
- আয়েশা আক্তার সুমা (৩০): স্বামী- মো. নুরুজ্জামান, আশুলিয়া, ঢাকা।
- সোহা আক্তার (১১): পিতা- সোহেল মোল্লা, রাজবাড়ী।
- আয়েশা সিদ্দিকা (১৩): পিতা- গিয়াসউদ্দিন রিপন, খোকসা, কুষ্টিয়া।
- আরমান (৭ মাস): পিতা- নুরুজ্জামান, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।
- আব্দুর রহমান (৬): পিতা- আব্দুল আজিজ, কালুখালী, রাজবাড়ী।
- সাবিত হাসান (৮): পিতা- শরিফুল ইসলাম, রাজবাড়ী সদর।
- আহনাফ তাহমিদ খান (২৫): পিতা- ইসমাইল হোসেন খান, রাজবাড়ী সদর।
- উজ্জ্বল: পিতা- মজনু, কালুখালী, রাজবাড়ী।
- আশরাফুল: পিতা- আফসার মণ্ডল, কালুখালী, রাজবাড়ী।
- জাহাঙ্গীর: পিতা- সানাউল্লাহ, কালুখালী, রাজবাড়ী।
ইতিমধ্যে ২৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুর দুইটায় যাত্রী নিয়ে কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে থেকে ছেড়ে আসে বাসটি। তাদের বেশিরভাগই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
