বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজারে কুমিরের মৃত্যু

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৪০ পিএম

বাগেরহাটে ঐতিহাসিক খান জাহান আলীর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা দুইটি কুমিরের একটির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের নির্দেশে দিঘি থেকে কুমিরের মরদেহটি পাড়ে ওঠানো হয়।

এর আগে, দুপুরের দিকে দিঘির দক্ষিণ পশ্চিম কোনে পুরুষ (বড়) কুমিরটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, মাজার কর্তৃপক্ষ, খাদেমসহ দর্শনার্থীরা মাজার প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।

কুমিরের মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. লুৎফর রহমান।

এর আগে, ২০২১ সালের ১২ জুন এই কুমিরটি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তখন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্য প্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির ও স্থানীয় খাদেমদের সহায়তায় কুমিরটিকে ওপরে তোলা হয়েছিল। প্রাণি সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে কুমিরটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে মোটামুটি সুস্থ ছিল পুরুষ কুমিরটি। স্থানীয় ফকিরদের দাবি কুমিরের একটি চোখ অন্ধ ছিল।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির শের আলী বলেন, কুমিরগুলো আসলে দিঘির প্রাণ ছিল। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এই কুমিরকে টাকা কামানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন। কুমিরকে আটকে রেখে দর্শনার্থী ও ভক্তদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত। ৬-৭ মাস ধরে কুমিরটিকে একজনের বাড়ির পুকুরে আটকে রাখা হয়েছিল। এতদিন ধরে কুমির এক জায়গায় থাকে না। আমরা এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগও করেছি।  কুমিরের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এই খাদেম।

প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. লুৎফর রহমান বলেন, কুমিরটি তিন বছর আগেও একবার অসুস্থ হয়েছিল। তখন আমরা চিকিৎসা দিয়েছিলাম। এরপরে মোটামুটি ভালো ছিল। আমরা কুমিরের মরদেহের ময়নাতদন্ত করব। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করব।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। মাদ্রাজ থেকে আনা দুইটি কুমিরের পুরুষ কুমিরটি মারা গেছে। এখানে খাদেমদের অভিযোগ রয়েছে, আমরা তদন্ত করছি। এছাড়া কুমিরের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুলতানী শাসন আমলে খ্রিস্টীয় ১৪ শতকের প্রথম দিকে খান জাহান আলী বাগেরহাটে ‘খলিফতাবাদ’ নগর বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এসময় তিনি এই অঞ্চলে ৩৬০টি দিঘী খনন করেন। এর মধ্যে সব থেকে বড় ‘ঠাকুর দিঘি’। যে দিঘির পাড়ে তার সমাধি রয়েছে। এই দিঘিতে তিনি দুটো মিঠাপানির প্রজাতির কুমির ছেড়েছিলেন। যাদের নামছিল ‘কালাপাহাড় ও ‘ধলাপাহাড়। 

খানজাহানের মৃত্যুর পর মাজারের খাদেম ও ভক্তরা ওই কুমির দুটিকে নিয়মিত খাবার দিতেন। দীর্ঘদিন পর্যন্ত ওই কুমির যুগলের বংশধরেরা এখানে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় মারা যাওয়ার কারণে কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড়ের বংশ শঙ্কায় পড়ে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দিঘির কুমির ‘কালাপাহাড়’ এবং ২০১৫ সালে ‘ধলাপাহাড়’ কুমিরটি মারা যায়। ধলাপাহাড় নামক কুমিরটির চামড়া বাগেরহাট যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

এরই মাঝে মাজারে কুমিরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে ছয়টি কুমির এনে মাজারের দিঘিতে ছাড়া হয়। নিজেদের মধ্যে মারামারি করে দুইটি কুমির মারা যায়। দুইটি কুমির সুন্দরবনের করমজলে পাঠানো হয়। অবশিষ্ট দুইটি কুমির এতদিন এই মাজারেই ছিল। এর মধ্যে নারী কুমিরটি কয়েকবার ডিম পাড়লেও কোন বাচ্চা হয়নি।

 

একাত্তর/জো
বাগেরহাটের শরণখোলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সেদ্ধ ডিম খাওয়ার পর ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী শ্বাসরুদ্ধকর বন্দুকযুদ্ধের পর কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানে অপর এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। অভিযানস্থল থেকে উদ্ধার...
পূর্ব সুন্দরবন থেকে অপহৃত হওয়ার তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন পাঁচ জেলে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে বনদস্যুদের কবল থেকে তারা ছাড়া পান। তবে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে একজন দস্যুদের মারধরে...
বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘির আলোচিত কুমিরটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। 
২০২২ সালে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচারস্বত্ব কেনার নামে বড়ো অঙ্কের অর্থ লোপাট হয়েছিলো বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তবে বর্তমান সরকার কোনো...
২০১৩ সালের পাঁচ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখার কাছে জমা দেওয়া...
চলতি বছরের শুরুতে কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ‘ফিনালিসিমা’- যেখানে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের দুই চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের। কিন্তু ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক...
এবারের বিশ্বকাপে একদল ফুটবল ভক্তের অংকটা একদম পরিষ্কার ও সরল- আর্জেন্টিনা যার বিপক্ষেই খেলবে, সমর্থন করতে হবে সেই দলকেই! এই ‘অ্যান্টি-আর্জেন্টিনা’ বা আর্জেন্টিনা-বিদ্বেষী হিড়িকের চক্করে পড়ে ভক্তরা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর