সেকশন

মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
 

বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজারে কুমিরের মৃত্যু

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৪০ পিএম

বাগেরহাটে ঐতিহাসিক খান জাহান আলীর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা দুইটি কুমিরের একটির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের নির্দেশে দিঘি থেকে কুমিরের মরদেহটি পাড়ে ওঠানো হয়।

এর আগে, দুপুরের দিকে দিঘির দক্ষিণ পশ্চিম কোনে পুরুষ (বড়) কুমিরটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, মাজার কর্তৃপক্ষ, খাদেমসহ দর্শনার্থীরা মাজার প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।

কুমিরের মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. লুৎফর রহমান।

এর আগে, ২০২১ সালের ১২ জুন এই কুমিরটি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তখন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্য প্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির ও স্থানীয় খাদেমদের সহায়তায় কুমিরটিকে ওপরে তোলা হয়েছিল। প্রাণি সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে কুমিরটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে মোটামুটি সুস্থ ছিল পুরুষ কুমিরটি। স্থানীয় ফকিরদের দাবি কুমিরের একটি চোখ অন্ধ ছিল।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির শের আলী বলেন, কুমিরগুলো আসলে দিঘির প্রাণ ছিল। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এই কুমিরকে টাকা কামানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন। কুমিরকে আটকে রেখে দর্শনার্থী ও ভক্তদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত। ৬-৭ মাস ধরে কুমিরটিকে একজনের বাড়ির পুকুরে আটকে রাখা হয়েছিল। এতদিন ধরে কুমির এক জায়গায় থাকে না। আমরা এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগও করেছি।  কুমিরের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এই খাদেম।

প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. লুৎফর রহমান বলেন, কুমিরটি তিন বছর আগেও একবার অসুস্থ হয়েছিল। তখন আমরা চিকিৎসা দিয়েছিলাম। এরপরে মোটামুটি ভালো ছিল। আমরা কুমিরের মরদেহের ময়নাতদন্ত করব। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করব।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। মাদ্রাজ থেকে আনা দুইটি কুমিরের পুরুষ কুমিরটি মারা গেছে। এখানে খাদেমদের অভিযোগ রয়েছে, আমরা তদন্ত করছি। এছাড়া কুমিরের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুলতানী শাসন আমলে খ্রিস্টীয় ১৪ শতকের প্রথম দিকে খান জাহান আলী বাগেরহাটে ‘খলিফতাবাদ’ নগর বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এসময় তিনি এই অঞ্চলে ৩৬০টি দিঘী খনন করেন। এর মধ্যে সব থেকে বড় ‘ঠাকুর দিঘি’। যে দিঘির পাড়ে তার সমাধি রয়েছে। এই দিঘিতে তিনি দুটো মিঠাপানির প্রজাতির কুমির ছেড়েছিলেন। যাদের নামছিল ‘কালাপাহাড় ও ‘ধলাপাহাড়। 

খানজাহানের মৃত্যুর পর মাজারের খাদেম ও ভক্তরা ওই কুমির দুটিকে নিয়মিত খাবার দিতেন। দীর্ঘদিন পর্যন্ত ওই কুমির যুগলের বংশধরেরা এখানে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় মারা যাওয়ার কারণে কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড়ের বংশ শঙ্কায় পড়ে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে দিঘির কুমির ‘কালাপাহাড়’ এবং ২০১৫ সালে ‘ধলাপাহাড়’ কুমিরটি মারা যায়। ধলাপাহাড় নামক কুমিরটির চামড়া বাগেরহাট যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

এরই মাঝে মাজারে কুমিরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে ছয়টি কুমির এনে মাজারের দিঘিতে ছাড়া হয়। নিজেদের মধ্যে মারামারি করে দুইটি কুমির মারা যায়। দুইটি কুমির সুন্দরবনের করমজলে পাঠানো হয়। অবশিষ্ট দুইটি কুমির এতদিন এই মাজারেই ছিল। এর মধ্যে নারী কুমিরটি কয়েকবার ডিম পাড়লেও কোন বাচ্চা হয়নি।

 

একাত্তর/জো
বাঁধ ভেঙে এবং বৃষ্টির পানিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বাগেরহাটের মোংলায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বাগেরহাটে বিভিন্ন নদ-নদীর পড়ে কয়েক হাজার মানুষ যুগযুগ ধরে বাস করছে। তবে নদী পাড়ে বেড়ি বাঁধ না থাকায় মানুষগুলোর মধ্যে ক্রমেই জীবন ঝুঁকির আতঙ্ক বাড়ছে। আর যে সব এলাকায় বাঁধ রয়েছে তার ১৬ কিলোমিটার...
বাংলাদেশের উপকূলসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিশাল এলাকাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে সিলেট দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের আসামে গিয়ে নিঃশেষিত হয়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী...
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিনল্যান্ড, গুয়েতেমালা ও আয়ারল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতরা।
সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে নিয়ে সরকার অস্বস্তিতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের (১৩ থেকে ২০ গ্রেড) নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।
লোডিং...
Nagad Ads
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর


© ২০২৪ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত