ভাইস চেয়ারম্যান হলেন তৃতীয় লিঙ্গের মীর বর্ষা খাতুন। তার কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বুধবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বর্ষা।
প্রজাপতি মার্কায় তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ২৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আরতি দত্ত ২৩ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ ৩০ হাজার ৯০৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বর্ষা।
তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শুধু আরতি দত্ত নন, বিপুল ভোটে হেরেছেন মাহফুজা তাহের ও পাপিয়া সমাদ্দার নামে আরো দুই প্রার্থী।
ভোটে জয়ের পর বর্ষা খাতুন বলেন, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করে গরীব-মেহনতি মানুষের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্ষা নির্বাচিত হওয়ায় গর্বিত তার মা। বলেছেন, মানুষের সেবা করার মনোভাবের কারণেই এই বিজয়।
গতবারের নির্বাচনে হিজড়া জনগোষ্ঠী থেকে দেশের প্রথম উপজেলা পরিষদে নারী ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের সাদিয়া আক্তার পিংকি।
এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গের নজরুল ইসলাম ঋতু চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনিও বর্তমান পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ার আলিজান মীর ও আছিয়া বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে বর্ষা খাতুন সবার ছোট। পড়েছেন ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত। হিজড়া পরিচয় নিয়ে সমাজে সইতে হয়েছে অপমান, গঞ্জনা।
সবার চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় পেরিয়েছেন নানা প্রতিকূলতা। কিন্তু থেমে যাননি তিনি। অসহায় মানুষের সাথেই থেকেছেন, সবসময় সমাজসেবায় জড়িয়ে রেখেছেন নিজেকে।
অসহায় গরীব মানুষদের পাশে থেকে জিতে নিয়েছিলেন তাদের মন। আর এবার নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে করলেন বাজিমাত।
বর্ষার বিজয়ে আনন্দিত এলাকার হিজড়া জনগোষ্ঠী ও নারী ভোটাররা। ফুলের মালা, মিষ্টি নিয়ে তাকে অভিনন্দন জানাতে আসছেন তারা। সাধারণ মানুষের সুখে দুঃখে বর্ষা সবসময় পাশে থাকবেন, এটাই এলাকার জনগণের প্রত্যাশা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া আক্তার চৌধুরী বলেন, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় বর্ষা নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রচারে নেমেই নজর কেড়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের বর্ষা