শুধুমাত্র ইট-পাথরের অট্টালিকা ও দালান-কোঠা নির্মাণ করে উন্নয়নের বাহবা পেতে চান না বলে সোজা ভাষায় জানিয়েছেন নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। গতানুগতিক ধারার রাজনৈতিক কর্মী বা এমপি না হয়ে অঞ্চলের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবিক অবকাঠামো গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রোববার দুপুরে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি (বিরিশিরি) মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। অনুষ্ঠানে এবতেদায়ী ৫ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি/সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি/সমমান-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও সনদপত্র দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই নারী শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন ডেপুটি স্পিকার। দুর্গাপুরের সাধারণ শাখায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জনই নারী শিক্ষার্থী (‘সুমেশ্বরী কন্যা’) হওয়ায় তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি ডেপুটি স্পিকার হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেয়ার স্মৃতি নিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেয়ার সময় আমার মনের ভেতর একটাই চিন্তা কাজ করছিল, আজ থেকে ১০ বা ২০ বছর পর দুর্গাপুর-কলমাকান্দারই কোনো সন্তান যেন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হয়ে আরেকজনকে শপথ পাঠ করায়। অভিভাবক হিসেবে আমি আমাদের সন্তানদের স্বপ্নের সীমানা বহু দূর বাড়িয়ে দিতে চাই।
এলাকার সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনার কথা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি জানান, সরকারি সব সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও এলাকার তিনটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে আসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা সবার শ্রদ্ধার পাত্র। দয়া করে সন্তানদের হৃদয়ে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে দিন। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা বা জিপিএ-৫ অর্জনই শেষ কথা নয়, তাদের মানবিক গুণাবলিতে গুণান্বিত এক একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনছারী, বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির পরিচালক অঞ্জন কুমার চিসাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদের পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকার তাঁর নিজ তহবিল থেকে বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক লিও টলস্টয় রচিত কালজয়ী গল্প ‘হাউ মাচ ল্যান্ড ডাজ আ ম্যান নিড?’ (একজন মানুষের ঠিক কতটুকু জমি প্রয়োজন?) বইটি উপহার হিসেবে তুলে দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা শুনেই অসুস্থ ধর্ষক!
ছাদে ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরে শিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা: পুলিশ