পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও অপচয়ের খেসারত আজ সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বিগত সরকারের সময় প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং অকেজো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পেছনে শত শত কোটি টাকা ঢালা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের কারণেই বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে, বরগুনার বামনায় আয়োজিত একাধিক সরকারি সামাজিক সাহায্য প্রদান ও সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন।
বরগুনার বামনায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ, স্থানীয় পূজামণ্ডপগুলোতে ত্রাণ সহায়তার ডিও (ডিও লেটার) হস্তান্তর এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশজুড়ে একের পর এক অকেজো বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরি করেছিল। এসব অকেজো কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ প্রতি মাসে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এসব মেগা দুর্নীতি আর অপচয়ের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল ও জীবনযাত্রার ওপর।
সরকারের আর্থিক চাপের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও জানান, বিগত আমলের চড়া সুদের ঋণের দায় বর্তমান সরকারকেও টানতে হচ্ছে। শুধু বিগত পাঁচ মাসের ব্যবধানেই বর্তমান সরকারকে ঋণ ও ঋণের সুদ বাবদ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বিলাসিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা কেবল খাবারের পেছনেই বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খরচ করতেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আত্মনির্ভরশীলতার উদাহরণ টেনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতার মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন এবং তাঁর হাত ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবে বাংলাদেশের প্রথম জনশক্তি রপ্তানির দুয়ার উন্মোচিত হয়েছিল।
দেশের অর্থনীতিকে আবারও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে এবং পাচার হওয়া সম্পদের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সবাইকে ধৈর্য ধরে দেশের উন্নয়নে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ফরিদপুরে সৌরভিত্তিক নেট মিটারিং যুগের শুভসূচনা
দুর্গোৎসবে টানা আট দিন বন্ধ সোনামসজিদ স্থলবন্দর