ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের চাষিরা। বলছেন, এই পদ্ধতিতে চাষ করা আমের কদর বাড়ছে বিদেশের মাটিতে। চাহিদা আছে দেশিও বাজারেও। তাই বিদেশে রপ্তানিসহ দেশের বাজারে কীটনাশক ও বিষমুক্ত আম নিশ্চিতে ব্যাগিং পদ্ধতি আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলছেন, বাগান মালিক ও রপ্তানিকারকরা।
রাজশাহীর বাগান মালিক ও রপ্তানিকারক আনোয়ারুল হক। গেলো বছরগুলোর মতো এবারও আমবাগানে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন। কারণ, তার বাগানের আম যাবে বিদেশে।
বাগান পরিচর্যাকারীরা বলছেন, এই ব্যাগ ব্যবহারে আমের গায়ে কোন পোকামাকড় স্পর্শ করতে পারে না। একই সাথে ব্যাগের মধ্যে আম নিরাপদ ও সুন্দর হয়ে ওঠে।
এমনই আরও দুইজন আমচাষী জানান, ব্যাগ ব্যবহারে আম সুন্দর হয়। আর কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
জাত ভেদে আমের বয়স ৪০ থেকে ৫০ দিনের মাথায় নিয়ম মেনে বালাইনাশক দেয়ার পর এই ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়। এতে আমের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে, রোধ করে মাছি পোকার আক্রমণ, জানালেন রাজশাহীর ফল গবেষক ড. আলীম উদ্দীন।
দেশের পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে চাষ করা আমের চাহিদা বাড়ছে ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। তবে ব্যাগিং পদ্ধতি আম চাষিদের কাছে ব্যাপকভাবে পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে, মনে করেন ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হক।
রাজশাহীর চাপাই অ্যাগ্রো ফুড প্রডিউসারের এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দেশীয় ভোক্তারা একটা সময় মনে করতেন কেমিক্যাল দিয়ে আমে কালার আনা হয়েছে। তবে, এখন তারা বুঝতে পারছেন। আমাদের গত দুই-তিন বছর ধরে নতুন পরিবেশে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
চীন থেকে আমদানি করা প্রতিটি ব্যাগ ব্যবহারে খরচ পড়ে পাঁচ টাকা। একটি ব্যাগ ব্যবহার করা যায় দুই মৌসুম।
পানি জোগাড়ে পাড়ি দিতে হচ্ছে দীর্ঘ পথ