নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে তোপের মুখে পড়লেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা। গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
এসময় রংপুর থেকে ঢাকা ফেরার পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে অন্তর্বর্তী সরকারের পানি সম্পদ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের গাড়ি বহর আটকে দেন আন্দোলনকারীরা।
এসময় গাড়ি থেকে নেমে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি হলে তোপের মুখে পড়েন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
অবরোধকারীদের দাবি, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গাফলতির সুযোগে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। এসময় সংগঠনগুলো নিষিদ্ধের দাবি জানান তারা।
এসময় দুই উপদেষ্টা দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে আবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে এনসিপি ও গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরের সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা তদন্ত করে দায়িত্বহীনতার জন্য যারা দায়ি তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর যে হামলাটা হয়েছে সেটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজন। প্রথমত এই হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবশ্যই এর দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া হবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টাও নিন্দা জানিয়েছেন এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু এনসিপি নয় যে কোনো দলের ওপর যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাস্ত করবোনা।
তিনি বলেন, এতো বড় একটা গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যতোটা অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা হয়নি। সারাদেশে সার্বিকভাবে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এনসিপি বেশ কয়েক জেলায় তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এমন ঘটনা কোথাও ঘটেনি। যারাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের অবশ্যই উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ইতিপূর্বেও আওয়ামী লীগ গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীকে অবরুদ্ধ করে নৈরাজ্য করার অপচেষ্টা চালায়। আসলে আওয়ামী লীগ এখনও প্রশাসনের সর্বস্তরে রয়ে গেছে। গোপালগঞ্জে সন্ত্রাসীরা ঘাঁটি গেড়েছে। এদের কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। বিচার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। দ্রুত আমরা বিচার সম্পন্ন হতে দেখতে পারবো।
জুলাই সনদ সম্পর্কে তিনি বলেন, জুলাই সনদ আমাদেরই বেশি প্রয়োজন। কারণ আমরা থাকবোনা। এটা মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করছে। সনদের অনেকগুলো বিষয় আছে। এ ব্যাপারে দলগুলোকে ডেকে মতামত নেওয়া হয়েছে। সবার খসড়া একত্রে নিয়ে আমরা খসড়া তৈরি করার চেষ্টা করছি। যতো দ্রুত সম্ভব এটা করা হবে।
অপরদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি যে কোনো মব সৃষ্টির বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, আমরা যে পুলিশ বাহিনী নিয়ে কাজ করছি সেই পুলিশকে গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা নিজের মতো করে সাজিয়েছে। তারা আমাদের পুরোপুরি সহযোগিতা করবে, এটা আশা করা যায় না। শেখ হাসিনা পুরো রাষ্ট্রকে ধ্বংস স্তূপে পরিণত করে গেছে। একটা ধ্বংস স্তূপ থেকে দেশটাকে আস্তে আস্তে গড়ে তুলতে হচ্ছে। প্রশাসনের সব ক্ষেত্রে তাদের লোক। তাই বেগ পেতে হচ্ছে। পুলিশকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা চলছে। সে পর্যন্ত গোপালগঞ্জের মতো ঘটনার মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, আজ এনসিপির সঙ্গে যা করা হয়েছে তা মূলত নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতা। আমরা এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাস্ত করবোনা। পুলিশসহ যাদেরই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
