কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে নদনদীর পানি বাড়ছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেটে প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সারি নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে। আরও কয়েকটি পয়েন্টে নদনদীর পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস এ তথ্য জানিয়েছেন।
পাউবো জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্ট ১৩ দশমিক ৮৪ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার।
কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে ১৬ দশমিক ১২ মিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারার অমলশীদ এলাকায় বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৪০ মিটার।
এছাড়া সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১২ দমশিক ৩৫ মিটার। এ পয়েন্টে বুধবার সন্ধ্যায় ১৩ দশমিক ১৮ মিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ তিন নদী ছাড়াও লোভাছড়া, পিয়াইন ও ধলাই নদীর পানিও বেড়েছে অন্তত ৬-৭ সেন্টিমিটার করে।
এদিকে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেটে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ভারতের আসামেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস। সেই হিসাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সিলেটের নদনদীর পান বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার দুপুরে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে।
মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি সকালে বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও দুপুরে বিপৎসীমার কিছুটা নিচে নেমে এসেছে বলেও জানান তিনি।
এরই মধ্যে সিলেটের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের হাওর ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে । এছাড়াও পানি উঠেছে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কে।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব নদনদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
রিমালের তাণ্ডবে সুন্দরবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি