নতুন শিক্ষাবর্ষে নবম-দশম শ্রেণির তিনটি বিষয়ের বইতে ভুল চিহ্নিত করে সংশোধনী দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। পাঠ্যবইয়ে ভুল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই এই সংশোধনী দেয়া হলো।
নবম ও দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পৌরনীতি ও নাগরিকতা এই তিন বইয়ের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় মোট ৯টি ভুল মিলেছে। সেসব ভুল চিহ্নিত করে, নতুন করে সংশোধনী দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে, এই তথ্য জানিয়েছে এনসিটিবি।
নবম-দশম ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে চারটি ভুল সংশোধন করা হয়েছে। বইটির ১৮১ পৃষ্ঠায় বলা ছিলো, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর নির্যাতন, গণহত্যা ও ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর নির্যাতন, গণহত্যা ও ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে।
ওই বইয়ের ২০৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদ। ওই অংশের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ষষ্ঠ লাইনে পঞ্চমভাগে আইনসভা।
নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইতে তিনটি সংশোধনী দেয়া হয়েছে। এ বইয়ের ৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে চারটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দল চারটি হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
এ অংশের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দল পাঁচটি হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি নেজামে ইসলাম, গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফতে রব্বানী পার্টি।
একই বইয়ের ১৬ পৃষ্ঠায় বলা আছে, ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প ও পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প। ওই অংশের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ও পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তার।
ওই বইয়ের ২৮ পৃষ্ঠায় বলা আছে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ এ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ এ সংবিধানের বৈশিষ্ট্য।
নবম ও দশম শ্রেণির পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের বইয়ে দুটি দিক সংশোধন করা হয়েছে। বইয়ের ৫৭ পৃষ্ঠার রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ এর ১ নম্বর অনুচ্ছেদটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ এর ১ ক্রমিকের অনুচ্ছেদের প্রতিস্থাপিত হবে, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারের সব শাসন সংক্রান্ত কাজ তার নামে পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: আরেক দফা বাড়লো গ্যাসের দাম
তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া তার দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করেন। তিনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের (মহা-হিসাবরক্ষক, রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা) নিয়োগের দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তিন বাহিনীর (সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী) প্রধানদের তিনিই নিয়োগ দেন।
একাত্তর/আরএ
