অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগসহ নানা অসংগতি সামলে দ্রুত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। একাত্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভুল ধারণা দূর করতে পাঠ্য বই সংস্কারে কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হিসেবে দেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর থেকে ৪২ জন উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন। তবে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদত্যাগ করেননি। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষভাবে পরিচালিত হয়।
শূন্য হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩৩ জন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে, ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো উপাচার্য নিয়োগ হয়নি। চেষ্টা চললেও দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি নানা কারণে।
শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ একাত্তরকে জানালেন, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ও যোগ্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানকে হয়রানি করার খবর প্রকাশিত হয় সামাজিক মাধ্যমে। তবে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম বড় কর্মযজ্ঞ প্রতি বছরের প্রথম দিন প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীকে বই দেওয়া। এরই মধ্যে দুই বছর ধরে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত এসেছে।
গেলো মাসে সংস্কার কমিটি গঠন করে ১৩ দিনের মাথায় বাতিলও করা হয়। সেই ব্যাখ্যার সাথে প্রয়োজনে ২০২৬ সালে নতুন কমিটি করা হবে বলেও জানালেন উপদেষ্টা।
অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ সমন্বয়ের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়েছিল। সেটাই ভুলবশত প্রজ্ঞাপন আকারে চলে যায়। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, এ জন্যই কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বাকি থাকা এইচএসসির কিছু বিষয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এইচএসসির ফল দেওয়া হবে বলেও জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের করা নতুন শিক্ষাক্রম অব্যাহত না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ২০১২ সালের পুরোনো শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আগামী বছর পাঠ্যবই দেওয়া হবে। ২০২৬ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করে বই দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে।
পলিথিনের বিকল্প চান ক্রেতা-বিক্রেতারা