জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২১ নম্বর হলে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মোবাইল বন্ধ করে র্যাগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একই বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের ১৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে হল প্রশাসনের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামানকে সভাপতি, সহকারী প্রক্টর ড. মো. আল-আমিন খানকে সদস্য এবং ডেপুটি রেজিস্টার (উচ্চ শিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।
হল সূত্র জানায়, রোববার (১২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ওই হলের ৪০৩ নং রুমে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ তম ব্যাচের ২০ শিক্ষার্থীকে ডেকে নেন ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। প্রথমে তারা রফিক জব্বার হলের চত্বরে ছিলো। পরে হলের রুমে নিয়ে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে কক্ষের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অন্ধকার রুমে দাঁড় করিয়ে তাদের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়। বিষয়টি হল সংসদ নেতৃবৃন্দ ও ক্যাম্পাসের সংবাদ প্রতিনিধিরা প্রথমে জানতে পারে। পরে হল প্রশাসনকে জানালে তারা তাৎক্ষণিক এসে ঘটনার সত্যতা পায় তারা।
যদিও ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা নবীন বরণের আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কাউন্সিলিং করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম জানান, ওই ঘটনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’-এর ধারা ৪-এর (১) (খ) অনুযায়ী অভিযুক্ত ১৬ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
