ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পোষ্য কোটার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন জানিয়ে উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, আদালত যে রায় দেবে তা মেনে নিতে প্রস্তুত আছি। শিক্ষার্থীদের চাহিদার প্রেক্ষিতে সব রকম সংস্কার করেছি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই বৈষম্যের বিরুদ্ধে, মেধার পক্ষে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে ভর্তি পরীক্ষা পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকাসহ আট বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে একযোগ ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। এমসিকিউ ও লিখিত দুইভাবে হয়েছে এই পরীক্ষা। এবার বাণিজ্য অনুষদের ৯ টি বিভাগের প্রতি আসনে লড়ছেন ৩৩ শিক্ষার্থী।
ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করে উপাচার্য জানিয়েছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি প্রক্রিয়ায় পোষ্য কোটা বা ওয়ার্ড কোটা একটি বিদ্যমান ব্যবস্থা, যার অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সন্তানরা ভর্তির জন্য বিশেষ সুবিধা পান। এই কোটা বর্তমানে বহাল আছে এবং শিক্ষার্থীরা এর বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সন্তানরা এই কোটার অধীনে আবেদন করতে পারেন। এই কোটার জন্য নির্দিষ্ট কোনো আসন সংখ্যা নির্ধারিত নেই, তবে প্রতি বছর গড়ে ২৪ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী এই কোটায় ভর্তি হন।
এই কোটায় ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের মূল ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর পেতে হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো মেধা তালিকা থেকে নয়, বরং ন্যূনতম যোগ্যতাক্রমে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে তাদের ভর্তি করা হয়।
পোষ্য কোটায় আবেদন করার জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন ফর্মে নির্দিষ্ট ঘরে ক্লিক করে পিতা বা মাতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইডি নম্বর এবং সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের পে স্লিপ আপলোড করতে হয়।
পোষ্য কোটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ এটিকে বৈষম্যমূলক এবং মেধাভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করেন।
এদিকে ‘পোষ্য কোটা বাতিল আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন এই কোটা বাতিলের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এই কোটা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টে একটি রুল জারি করা হয়েছে।
