প্রতিবেশী
দেশ ভারত থেকে করোনার তিন কোটি ডোজ টিকা আসার কথা থাকলেও সরবরাহ থমকে গেছে ৭০ লাখে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে টিকা সংকট চরমে পৌছায়, সেরাম ইনিস্টিটিউট
থেকে টিকার বাকি চালান কবে আসবে তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চিয়তা।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে করোনা প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। বর্তমানে স্থগিত আছে প্রথম ডোজ দেয়া। শুধুমাত্র দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও রয়েছে ঘাটতি। যা নিয়ে শঙ্কায় আছেন সংশ্লিষ্ট সব কর্তপক্ষ।
এমন অবস্থায় বিকল্প নিয়ে ভাবছেন গবেষকরা। দ্বিতীয় ডোজে অন্য কোম্পানির টিকা দেয়া যায় কিনা, গেলেও সেটি কতটুকু কার্যকর এবং নিরাপদ, তা নিয়ে ভাবছেন তারা।
সোমবার রাতে একাত্তর জার্নালে এনিয়ে কথা বলতে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ সায়েদুর রহমান খসরু।
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দুই কোম্পানির দুই ডোজ ব্যবহার করার ঘটনাটি একেবারেই নতুন। এর আগে মেনিনজোকক্কাস এর চিকিৎসায় দুর্ঘটনার কারণে জরুরী ভিত্তিতে টিকার দ্বিতীয় ডোজ বদল করা হয়েছিল। কিন্তু এবার করোনার ব্যাপারে এ নিয়ে গবেষণা চলছে।
এই চিকিৎসক বলেন, “সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত অ্যাস্ট্রোজেনেকা টিকার দ্বিতীয় ডোজের বিকল্প কি হতে পারে তা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গবেষণা চলছে”।
তিনি আরও জানান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে বিশেষ কিছু বয়সের বা শ্রেণির মানুষের জন্য অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে সেখানে পাওয়া যায় এমন টিকাগুলোকে দ্বিতীয় ডোজে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট গবেষণালব্ধ কোন ফলাফল না থাকায় এখনও কোন সুপারিশ আসেনি।
এ ব্যপারে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ডের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে একই কোম্পানির টিকা দিয়ে উভয় ডোজ সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক পোলার্ডের মতে যে টিকা পাওয়া যায় সেটি দিয়েই ডোজ সম্পন্ন করা উচিত।
কারণ, বুস্ট করার সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়াই এই মুহূর্তে বাস্তবধর্মী হবে। কিন্তু কোন টিকা ব্যবহার করা উচিত হবে সে ব্যপারে তিনি সুনির্দিষ্ট মতামত দেননি। তিনি বলেন, এ ব্যপারে গবেষণা চলছে কিন্তু এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে যেটি নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে সেটি বর্তমানে আমাদের দেশে প্রাপ্য নয়, যোগ করেন অধ্যাপক সায়েদুর রহমান।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে যে স্পুটনিক-ভি টিকা আসার কথা রয়েছে সেটিও বলা যায় দুটো ভ্যাক্সিনের সমন্বয় অর্থাৎ সেখানে দুটি ভেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, এভাবে খণ্ড খণ্ড ভাবে প্রাপ্ত তথ্য জুড়ে নতুন তথ্য উৎপাদন করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাকে বলা হয় ‘ব্রিজিং স্টাডি’। অর্থাৎ অন্যান্য গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য একত্রিত করে নতুন জায়গায় প্রয়োগ করা যাতে করে ফলাফলে কোন পরিবর্তন হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করা যায়।
তিনি বলেন, সব ভ্যাক্সিন এখনও প্রথম প্রজন্মে রয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে শুধু দ্বিতীয় ডোজ নয়, দ্বিতীয় প্রজন্মের ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের দৌড়েও আমাদের যুক্ত হতে হবে। সেজন্য সাধারণ মানুষকেও গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহন করতে হবে। সেজন্য মানুষের কাছে এর ঝুঁকিসমূহ ব্যাখ্যা করতে হবে যেন তারা স্বেচ্ছায় গবেষণা কাজে অংশ নেয়।
একাত্তর/এসজে
