‘ডুসেলডর্ফ রোগী’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট পাওয়ার পর এইচআইভি থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন। এরআগে তার লিউকেমিয়ার চিকিৎসায়ও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এইচআইভি এবং ক্যান্সার উভয়েরই অন্য দু’টি ক্ষেত্রে বার্লিন এবং লন্ডনের রোগীদের পূর্বে উচ্চ-ঝুঁকির পদ্ধতি অনুসরণ করে বৈজ্ঞানিক জার্নালে নিরাময় হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নেচার মেডিসিন জার্নালে ডুসেলডর্ফ রোগীর এইচআইভি নিরাময়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।
৫৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, ২০০৮ সালে তার এইচআইভি ধরা পড়ে।
তিন বছর পরে তিনি তীব্র মায়লোয়েড লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা রক্তের ক্যান্সারের একটি প্রাণঘাতী রূপ।
২০১৩ সালে তার সিসিআর-৫ জিনে বিরল মিউটেশনসহ একজন মহিলা দাতার স্টেম সেল ব্যবহার করে তিনি একটি অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন করেছিলেন। এইচআইভি কোষে প্রবেশ করা বন্ধ করতে মিউটেশন পাওয়া গেছে।
ডুসেলডর্ফ রোগী তখন ২০১৮ সালে এইচআইভির জন্য অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বন্ধ করে দেন।
চার বছর পর ধারাবাহিক পরীক্ষায় তার শরীরে এইচআইভি ফিরে আসার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, ‘এইচআইভি-১ নিরাময়ের এটি তৃতীয় কেস’। ভবিষ্যতে এটি এইচআইভি নিরাময়ের কৌশলগুলোকে গাইড করবে।
রোগী এক বিবৃতিতে বলেন, ডাক্তারদের দলের জন্য আমি গর্বিত যারা আমাকে এইচআইভি নিরাময়ে সফল হয়েছে। একই সাথে অবশ্যই, লিউকেমিয়া।
যিনি দাতা ছিলেন তিনি জানান, গত সপ্তাহে ভালোবাসা দিবসে তার প্রতিস্থাপনের ১০ বছর পূর্তি ‘বড় আকারে’ উদযাপন করেছেন তারা।
যদিও এইচআইভির নিরাময় দীর্ঘকাল ধরে খোঁজা হচ্ছে, এই ক্ষেত্রে জড়িত অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন একটি গুরুতর এবং বিপজ্জনক অপারেশন। এটি শুধুমাত্র এইচআইভি এবং রক্তের উভয় ক্যান্সারে আক্রান্ত অল্প সংখ্যক রোগীর জন্য উপযুক্ত।
বিরল সিসিআর-৫ মিউটেশনসহ একটি অস্থি মজ্জা দাতা খুঁজে পাওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
গবেষণার একজন সহ-লেখক, ফ্রান্সের পাস্তুুর ইনস্টিটিউটের আসিয়ার সেজ-সিরিয়ন বলেছেন, প্রতিস্থাপনের সময় ‘রোগীর রোগ প্রতিরোধক কোষগুলো দাতাদের দ্বারা সম্পূর্ণরুপে প্রতিস্থাপিত হয়, যা সংক্রমিত কোষগুলোর বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে সম্ভব করে তোলে।’
একাত্তর/আরবিএস
