দেশে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার সফল পরীক্ষা শেষ করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি)। এ টিকার নাম দেয়া হয়েছে টিভি-০০৫ বা টেট্রাভেলেন্ট। সিঙ্গেল ডোজের এ টিকা এক বছর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সবাই নিতে পারবেন।
এ পর্যন্ত টিকাটির দুটি ট্রায়াল হয়েছে। ট্রায়ালে অংশ নেয়া বিভিন্ন বয়সী ১৯২ জনের মধ্যে এটির কার্যকারিতা মিলেছে।
শেষ ছয় বছর ধরে দেশে অনেকটাই নীরবেই চলেছিলো ডেঙ্গু টিকার ট্রায়াল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ এই টিকার উদ্বোধন করে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবির তত্ত্বাবধানে চলে ট্রায়াল।
২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ট্রায়ালে দেশের বিভিন্ন এলাকার ১ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ১৯২ জন স্বেচ্ছায় অংশ নেন। দুই দফার ট্রায়ালে তাদের মধ্যে ডেঙ্গুর চারটি ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হননি। কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি।
আইসিসিডিআরবি গবেষক ডা: রশিদুল ইসলাম বলেন, টিকাটা যার সামর্থ্য হবে সে আপাতত কিনে নিয়ে দেবে। পরে সরকার যখন নেবে- তখন ফ্রিতে পাওয়া যাবে।
এবার তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের অপেক্ষা। যাতে আরও ব্যাপক মানুষের মধ্যে টিকাটির পরীক্ষা চালানো হবে। এই পরীক্ষায় ভালো ফল পেলে গণব্যবহারের জন্য টিকাটি অনুমোদন পাবে। যদিও এরিমধ্যে ভারত ও ভিয়েতনাম এই টিকা তৈরিতে আগ্রহী।
এক ডোজের ডেঙ্গু টিকা টিভি-০০৫ বা টেট্রাভেলেন্ট দামেও সস্তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলতি বছর এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৬ হাজার ২৮৮ জন। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তাছাড়া পহেলা অক্টোবর নতুন করে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। চলতি বছরের শুরু থেকে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে।
২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।
২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে এডিস মশাবাহী এই রোগে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।
ডেঙ্গুতে মৃত্যু হাজার ছাড়ালো