দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে মারাত্মক সুনামির পর দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায় দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা দ্বীপটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
রোববার (১৬ জানুয়ারি) পেরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সিভিল ডিফেন্সের বরাতে (ইন্ডেসি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আই-নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সুনামির সময় শনিবার উত্তরাঞ্চলীয় লাম্বায়েক অঞ্চলে অবস্থিত একটি সৈকতে এক দম্পতি ডুবে মারা যায়।
এদিকে বিবিসি জানায়, টোঙ্গায় ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় এসব যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির সত্যিকার মাত্রা জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
টোঙ্গার নিউ জিল্যান্ড হাই কমিশনের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, টোঙ্গার পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন রিসোর্ট এবং নুকু'আলোফার সমুদ্রের দিকের অংশে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম উপকূলে এখনও ছাইয়ের আস্তর রয়েছে।
হাতা'আফু বিচ রিসোর্ট আনায়, তাদের রিসোর্টটি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এছাড়া পুরো পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে সেখানে এখনও কেউ নিখোঁজ বা হতাহত হননি।
আরও পড়ুন: দৈনিক শনাক্ত সাড়ে ছয় হাজারের বেশি, হার ২০ শতাংশ পার
নিউ জিল্যান্ডের একটি টেলিভিশনের প্যাসিফিক প্রতিনিধি বারবারা দ্রেভার ফেসবুকে লিখেছেন, অগ্নুৎপাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সাবমেরিন ক্যাবলের ক্ষতি হওয়ায় টোঙ্গায় আন্তর্জাতিক ফোনকল এবং ইন্টারনেট সচল হতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এর আগে শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাইপাই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে টোঙ্গাতে প্রায় এক মিটারেরও বেশি উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে। এ অগ্ন্যুৎপাতের শব্দ যুক্তরাষ্ট্র থেকেও শোনা গেছে। অগ্ন্যুৎপাতের স্থান থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত টোঙ্গার বেশ কিছু এলাকা ছাই দিয়ে ঢেকে গেছে। সেখানে বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা।
একাত্তর/আরবিএস
