ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র নেতা আনিস খান হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন মমতা।
এক বৈঠকে মমতা সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়বার পুলিশ গিয়েছিল ময়নাতদন্তের জন্য। কিন্তু তা করতে দেওয়া হয়নি। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। তার ভিত্তিতে দুইজন পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন আইনের মতো চলবে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমি তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।
এদিকে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতা আনিস খানের মৃত্যুরহস্য এখনও অন্ধকারে। এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে, বিশেষ তদন্তকারী দলের উপর ভরসা রাখতে নারাজ আনিসের পরিবারও।
ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা কেন্দ্রীয় অনুসন্ধান সংস্থার (সিবিআই) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আনিসের বাবা সালেম খান। মৃত্যুর বিচার চেয়ে পথে নেমেছে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। প্রতিবাদে সামিল হয়েছে যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, হাওড়া জেলার আমতার বাসিন্দা আনিস খান। শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই চার ব্যক্তি আসে তার খোঁজে। একজনের পরনে ছিল পুলিশের পোশাক, অন্যরা ছিলেন সিভিক পুলিশের পোশাকে। এমনটাই দাবি আনিসের পরিবারের।
আরও পড়ুন: বিয়ে থেকে ফেরার পথে প্রাইভেটকার পুকুরে পড়ে পাঁচজন নিহত
আনিসের পরিবার জানায়, বারবার গেট খোলার অনুরোধ করলে আনিসের বাবা এক সময় গেট খুলে দেন। চারজনের তিনজন দ্রুত চলে যায় তিন তলায়। আনিস তখন বারান্দায় বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইল ফোনে কিছু একটা শুনছিলেন। পরিবারের দাবি, রাত তিনটার দিকে ওই দুই ব্যক্তি তিন তলায় উঠে আনিসের মাথায় প্রথমে আঘাত করে, তারপর তিনতলা থেকে ফেলে দেয়।
পরিবারের পক্ষে থেকে সংবাদমাধ্যমকে আরও জানানো হয়, বারবার ফোন করা সত্ত্বেও আমতা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় ছয় ঘণ্টা পরে। ময়না তদন্ত পরিবারের সবার অনুপস্থিতিতে করানোর অভিযোগও উঠেছে।
আরও পড়ুন: লেভরভের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলেন ব্লিনকেন
২৮ বছর বয়সী এ ছাত্র নেতাকে অনেক আগে থেকেই মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো। স্থানীয় পুলিশকে জানালেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
ভারতে এনআরসি'সহ (জাতীয় নাগরিকপঞ্জি) একাধিক আন্দোলনে প্রতিবাদের মুখ ছিলেন আনিস৷ নিজের এলাকার জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতৃত্বও দিয়েছেন৷
একাত্তর/আরবিএস
