হোয়াইট হাউস। এক নামে সবাই চেনে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের নেতার বাসভবন, কার্যালয় থেকে শুরু গোটা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু এই হোয়াইট হাউস।
শুধু আমেরিকান নাগরিক নয়, বিশ্বের তাবৎ সব দেশের পর্যটকের কাছে হোয়াইট হাউসের রয়েছে বিশেষ কদর। এই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারলে ধন্য মনে করেন সবাই।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং ফার্স্ট লেডিকে এই বাসভবনেই কাটাতে হয় ক্ষমতায় থাকার দিনগুলো। যেখানে সব কিছুই থাকে নিয়ন্ত্রিত আর কঠিন নিরাপত্তার বলয়ে।
এমন পরিবেশ যে সবার ভালো লাগে এমন কিন্তু নয়। এই যেমন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের কাছে হোয়াইট হাউসের জীবন হলো নিরামিষ।
আগের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পরিবারের কাছে যেখানে হোয়াইট হাউস ছিলো দারুণ আভিজাত্যোর বিষয়, বাইডেন-জিলের কাছে তেমন নয়।
লাইফ স্টাইল বিষয়ক জগৎখ্যাত সাময়িকীর আগস্ট সংস্করণের প্রচ্ছদে এসেছেন জিল বাইডেন। সেখানে তিনি এবং বাইডেন কথা বলেছেন হোয়াইট হাউসের জীবন নিয়ে।
অকপটে বলেছেন, হোয়াইট হাউসে থাকার বিশেষ কোন সুবিধা নেই। নেই কোনো ভালো দিকও।
বাইডেন বলেন, ‘যখন সিনেটর ছিলাম, তখন ‘হেইল টু দ্য চিফ’ এবং আরও কিছু কথা বলা আমার কাজ ছিল। তবে এখন বাস করে বলছি, এখানে থাকার বিশেষ কোনো সুবিধা বা সে অর্থে প্রকৃত ভাল দিক বলতে কিছু নেই’।
বাইডেন জানান, প্রথম দিকে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়ে শামিল হতেও উৎসাহী ছিলেন না তিনি। কিন্তু স্ত্রী জিল তাকে উৎসাহিত করেন।
আরও পড়ুন: বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে লস অ্যাঞ্জেলাসে অঘটন
তিনি বলেন, ‘জিল আমাকে বলল, এবার তোমাকে দৌড়াতেই হবে। কারণ অনেক কিছুই বিপদের সম্মুখীন। তোমাকে সামলাতে হবে। তাই, এই প্রথম আমি চেষ্টা করেছি’।
সাক্ষাৎকারে বাইডেন আক্ষেপ করে জানান, খুব সঙ্গত কারণেই জিলের সঙ্গে এখন আর আগের মতো করে সময় কাটাতে পারেন না। সম্ভবও হয়ে উঠে না।
শুধু বাইডেন নয়, তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার কাছেও হোয়াইট হাউসের জীবন পছন্দের ছিলো না। তার বইতে লিখেছেন, সেখানে থাকা বড় সম্মানের বিষয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি স্বাধীনতাই তো নেই। নেই কোনো ব্যক্তিগত জীবনও। আর যে প্রাচুর্য রয়েছে, তার জন্য কোনো দিনই ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল উৎসুক ছিলেন না।

একাত্তর/আরএ
