পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নিজ দেশের ১২ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ভারত সরকার। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কেউ ব্যবসায়ী, কেউ মজুর, কেউ পড়ুয়া, আবার কেউ ইউটিউবার। তারা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম পুলিশের বরাত দিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে এই ১২ অভিযুক্ত ছাড়াও দেশটির একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশ থেকে ৯ জন ‘গুপ্তচর’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের পুলিশ মহাপরিচালক গৌরব যাদব বলেছেন, পুলিশ ‘সংবেদনশীল সামরিক তথ্য ফাঁসের সাথে জড়িত’ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি বলেন, পুলিশ ‘বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য’ পেয়েছে, এই দুই ব্যক্তি গত ৬-৭ মে রাতে পাকিস্তানের ভূখণ্ডের গভীরে নয়াদিল্লির হামলার সাথে সম্পর্কিত গোপন তথ্য বিনিময়ের সাথে জড়িত ছিলো।
যাদব আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তারা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এর পরিচালকদের সাথে ‘সরাসরি যোগাযোগ’ করেছিলো এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রেরণ করেছিলো।

এদিকে হরিয়ানায় গত সপ্তাহে একই অভিযোগে জ্যোতি মালহোত্রা নামে এক জনপ্রিয় ভ্রমণ ব্লগারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ব্লগার নারী কমপক্ষে দু'বার পাকিস্তান ভ্রমণ করেছিলেন এবং দেশটির দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।
গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে একজন ছাত্র, একজন নিরাপত্তারক্ষী এবং একজন ব্যবসায়ী রয়েছেন। তবে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের সোশ্যাল মিডিয়া, আর্থিক প্রণোদনা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, মেসেজিং অ্যাপ এবং পাকিস্তানে ব্যক্তিগত ভ্রমণের মাধ্যমে গুপ্তচর নেটওয়ার্কে প্রলুব্ধ করা হয়েছিলো।
পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনও চলমান। আরও অনেকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। তাতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে দেশটিতে হামলা চালায় ভারত। এরপর থেকেই দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে। যদিও পাকিস্তান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে একাধিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে উভয় দেশ।
গাজায় সীমিত মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিলো ইসরাইল
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে ‘অবাঞ্ছিত সংস্থা’ ঘোষণা রাশিয়ার
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইলি শর্তে হামাসের না
স্টারলিংকের যাত্রা শুরু, সর্বনিম্ন খরচ ৪২০০ টাকা