ইরান-ইসরাইল সংঘাতের চতুর্থ দিনে এক শোকাতুর পরিবেশে নিমজ্জিত গোটা ইরান। গত শনিবার যুদ্ধের প্রথম দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি নিষ্পাপ শিশু নিহতর ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে মাতম।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন সেই ছোট্ট শিশুদের বিদায় জানাতে, যাদের জীবন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে।
জানাজায় শোকের সমুদ্র: মৃত শিশুদের কফিন কাঁধে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন হাজার হাজার ইরানি। ভিডিওতে দেখা যায়, শক্ত সামর্থ্য পুরুষেরা তাদের সন্তানদের হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। শোকাতুর মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি। কান্নার শব্দ আর হাহাকারে মিনাবের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
গণকবর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষোভ: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে সারিবদ্ধভাবে খনন করা হচ্ছে অসংখ্য ছোট ছোট কবর। তিনি একে ‘কোল্ড ব্লাডেড মার্ডার’ বা ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেন।
আরাগচি লিখেছেন, এগুলো সেই ১৬০ জন নিষ্পাপ কিশোরীর কবর, যাদের দেহ মার্কিন-ইসরায়েলি বোমায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ট্রাম্প যে 'উদ্ধারের' প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাস্তবে তা এভাবেই ধরা দিচ্ছে। গাজা থেকে মিনাব, সর্বত্রই নিরাপরাধদের হত্যা করা হচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, দিনের আলোয় যখন স্কুলটি ছাত্রীতে ঠাসা ছিল, ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ।
যুক্তরাষ্ট্রের আত্মপক্ষ সমর্থন: এই ভয়াবহ অভিযোগের মুখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করে না। তিনি বলেন, যদি এটি আমাদের হামলা হয়ে থাকে, তবে প্রতিরক্ষা দপ্তর বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সচেতনভাবে স্কুলে হামলা চালায় না।
মানবিক বিপর্যয় ও অনিশ্চয়তা: শনিবার মিনাবের 'শাজারেহ তাইয়্যেবেহ' স্কুলে চালানো এই হামলাটি বর্তমান যুদ্ধের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এই নৃশংসতার জবাব দেওয়া হবে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চলছে, অন্যদিকে মিনাবের মায়েরা তাদের সন্তানদের খালি টিফিন বক্স আর রক্তভেজা স্কুলব্যাগ আঁকড়ে ধরে বিচার চাইছেন।
ফ্যাক্ট চেক: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কি জীবিত না মৃত?
ছোট ছোট কফিনে শোকাতুর ইরানের মিনাব