মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর তার ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা-এই দুইয়ের রসায়ন বিশ্ব রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত এবং কিছুটা গোলমেলে বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার আবারও নিজের ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, সোমবারের মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো রফাদফা না হয়, তবে ইরানকে ‘নরকের’ মধ্যে বাস করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের জ্বালানি তেলের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে তেহরান। এরপর থেকেই ট্রাম্প একের পর এক সময়সীমা বা আল্টিমেটাম দিয়ে চলেছেন।

গত ২১ মার্চ তিনি প্রথম হুমকি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘গুঁড়িয়ে’ দেওয়া হবে। কিন্তু সেই ৪৮ ঘণ্টা আজ পর্যন্ত শেষ হয়নি!
কখন কী বললেন ট্রাম্প, এক নজরে নাটুকে ঘটনাক্রম:
২১ মার্চ: প্রথম আল্টিমেটাম ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পথ খোলো, নয়তো ধ্বংস অনিবার্য’।
২৩ মার্চ: নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প সুর নরম করে বললেন, ইরানের সাথে গঠনমূলক আলোচনা হচ্ছে। হামলার পরিকল্পনা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হলো।
২৬ মার্চ: ইরান নাকি আরও সময় চেয়েছে! তাই ট্রাম্প দয়া করে আরও ১০ দিন সময় বাড়িয়ে নতুন ডেডলাইন দিলেন ৬ এপ্রিল।

১ এপ্রিল: ট্রাম্প দাবি করলেন, ইরান নাকি যুদ্ধবিরতির ভিক্ষা চাচ্ছে। যদিও তেহরান এই দাবিকে সরাসরি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে।
৩ এপ্রিল: ট্রাম্পের নতুন সুর- ‘একটু সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ খুলে ফেলতে পারব’।
৪ এপ্রিল: আবারও হুঙ্কার দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, সময় শেষ হয়ে আসছে। আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই শুরু হবে নরক যন্ত্রণা।
ফক্স নিউজে জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন তেহরান নাকি আলোচনার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্প আশাবাদী, সোমবারের মধ্যে একটি ‘চুক্তি’ হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্পের এই দফায় দফায় হুমকি আর সময় বাড়ানোর কৌশলকে অনেকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই পথে নামানোর জন্য চাপ দিয়ে চলেছেন তিনি।

তবে ইরান এখনো অনড়। ট্রাম্পের এবারের ‘নরক’ দেখার হুমকি কি আসলেই বাস্তুবায়িত হবে, নাকি আগামী পরশু আবারও নতুন কোনো ডেডলাইন আসবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিশ্ববাজার চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে এই ৫ এপ্রিলের নাটকের শেষ দৃশ্য দেখতে, কারণ বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের সরবরাহ আটকে আছে এই এক প্রণালীতেই।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
