অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লন্ডন যদি এই অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য ও নীতিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব।
ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার মঙ্গলবার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে ইসরাইলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তারা (যুক্তরাজ্য) একটি বড় ভুল করতে চলেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার ব্রিটেনের লেবার সরকারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে ইসরাইল-বিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

একই সাথে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যম মারিভের বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যকে একটি 'কার্যকর' জবাব দেওয়ার কথা জানিয়ে রেখেছে। পাল্টা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে গঠিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার’থেকে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করা হতে পারে, এমন ভাবনার কথা সামনে এসেছে।
এর আগে নেদারল্যান্ডস ও স্পেন ইসরাইলি অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে ঠিক একইভাবে তাদের কর্মকর্তাদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের এই মারাত্মক অবনতির মূল কারণ পশ্চিম তীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ই-ওয়ান’ অঞ্চলে ইসরাইলের নতুন আবাসন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে মালে আদুমিম ও পূর্বের অন্যান্য অবৈধ বসতির সাথে সংযুক্ত করা। এর ফলে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য যে ভূখণ্ড দাবি করে আসছে, তা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লামি পার্লামেন্টে জানান, আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাজ্য একটি 'সর্বাত্মক' নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ ঘোষণা করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে বিলুপ্ত করছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মারিভের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তরালে দুই দেশের মাঝে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে এবং লন্ডনকে নিষেধাজ্ঞার পথ থেকে সরে আসতে চাপ দিচ্ছে।

ইসরাইলের চরমপন্থী নেতাদের প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার হুমকির জবাবে ইসরাইলের অতি-ডানপন্থী নেতারা নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘আর্জেন্টিনার দখলকৃত ভূখণ্ড’ হিসেবে ইসরাইল স্বীকৃতি দেয় এবং ব্রিটেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায়। অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ইসরায়েলে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার দাবি তুলেছেন।
একই সঙ্গে, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাকে একটি ‘গুরুতর ভুল হিসাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটেনের অভ্যন্তরেও এই ইস্যু ঘিরে চরম বিতর্ক চলছে।
লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরাইলের সহ-সভাপতি ও এমপি পিটার প্রিন্সলি শঙ্কা জানান, ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় এই পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে, কারণ অনেকেই ইসরাইলি সরকারের নীতি এবং সাধারণ ব্রিটিশ ইহুদিদের মধ্যে পার্থক্য করতে সমর্থ হন না।
