কোনো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আশা দেখতে না পেয়ে মার্কিন পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। ইস্পাত, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সুতির টি-শার্ট পর্যন্ত প্রায় ২,৮০০ কোটি কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ২,০০০ কোটি মার্কিন ডলার) মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সমঝোতার ইচ্ছা প্রকাশ করা হলেও গত আগস্টের শেষের দিকে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তারা একটি স্থায়ী এবং উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে এমন চুক্তির খোঁজে আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত হলেই তারা আলোচনায় বসতে রাজি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করে জানিয়েছেন, কানাডাকে সর্বোচ্চ ভালো চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পাশাপাশি তিনি কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের প্রতিবাদে কিছু কানাডিয়ান পণ্য আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
বাণিজ্যিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বিমান প্রস্তুতকারী কানাডিয়ান জায়ান্ট ‘বোম্বার্ডিয়ার’কে তাদের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে না আনলে সব মার্কিন ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ ছাড়া সপ্তাহান্তে সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কানাডার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিময় হারকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে পোস্ট করেন তিনি। অন্য একটি পোস্টে কানাডা, মেক্সিকো ও গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন পতাকায় ঢেকে উত্তর আমেরিকার একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে কানাডিয়ান গাড়ি, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও কাঠের ওপর ২৫ শতাংশ মার্কিন কর কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া আগস্টের শেষের দিকে ট্রাম্প দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, হকি স্টিক ও পারফিউমের মতো পণ্যে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক বসান। এর জবাবে কানাডা 'ডলারের বদলে ডলার' নীতিতে পাল্টা ট্যাক্স আরোপ করেছে। কানাডার অভ্যন্তরে জনমত জরিপগুলো সরকারের এই পাল্টা পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এতে জামাকাপড় ও খাবারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ ভোক্তাদের জন্য অনেক বেড়ে যাবে।
নিজস্ব অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কানাডা সরকার শেষ মুহূর্তে গলদা চিংড়ি ও তাজা মাছের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক তুলে নিয়েছে। কারণ মার্কিন ও কানাডিয়ান প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প একে অপরের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও কানাডার জিডিপি বৃদ্ধি পেলেও আগস্ট মাসে এক ধাক্কায় প্রায় ৪১,০০০ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, যা বাণিজ্য বার্তা ভেস্তে যাওয়া ও মার্কিন শুল্কের সরাসরি প্রভাব।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে বাণিজ্য পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কানাডার মোট রপ্তানির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার হার ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৬৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ঘিরে যুক্তরাজ্য-ইসরাইল সম্পর্কে উত্তেজনা
এবার ফ্রান্সের রেনোয়া জাদুঘর থেকে শিল্পকর্ম চুরি