নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপ, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভাংচুরের পাশাপাশি লুটপাট এবং দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদারকে বদলি করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় নিহত হন যতন সাহা (৪২) ও প্রান্ত চন্দ্র দাস (২৬) নামের দুই ব্যক্তি। এরপর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি ও ইউএনওর প্রত্যাহার দাবি করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী পুলিশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে কামরুজ্জামান সিকাদারের বদলির অনুমতির জন্য নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কারণে বেগমগঞ্জ থানা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে মীর জাহেদুলহক রনিকে অফিসার ইনচার্জ বেগমগঞ্জ হিসাবে পদায়ন করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগগমগঞ্জ মডেল থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ মীর জাহিদুল হক রনি।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল ‘সন্দেহে’ একজন গ্রেপ্তার
মীর জাহেদুলহক রনি এর আগে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ছিলেন। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার আপত্তির কারনে গত কয়েকমাস আগে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে এসপি অফিসে আনা হয়।
উল্লেখ্য, কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে চৌমুহনী শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা চৌমুহনী ডিবি রোডে (ফেনী-নোয়াখালী সড়ক) গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দোকানপাট, মন্দির ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
একাত্তর/আরবিএস
