ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতি বছর মারা যায় এক লাখ আট হাজার মানুষ। আর এক লাখ ৫৬ হাজার রোগী নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।
গড়ে একজন ক্যান্সার রোগীর বছরে খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ১৭ শতাংশ পরিবার চলে যায় দরিদ্রসীমার নীচে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্যান্সার চিকিৎসা সেন্টার না থাকার কারণে ব্যয় বাড়ছে। সেই সঙ্গে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতাও অনেক কম।
রাজধানীর ক্যান্সার হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে থাকা সন্তানের মাথায় মায়ের স্নেহের ছোয়া। জানেন না এই আদর আর কতদিন করতে পারবেন।
গেল দেড় বছর ধরে ছেলে সাকিব আল হাসান আক্রান্ত অস্টো সারকোমা ক্যান্সারে। এরইমধ্যে খরচ মেটাতে কুমিল্লার বসতবাড়ি জমি সবই বিক্রি করেছেন।
এটি শুধু একজন সাকিবের উদাহরণই নয়। মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে এমন লড়াইয়ের গল্প রয়েছে অনেক পরিবারে। চিকিৎসা করাতে প্রতি বছর নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার।
তবে উল্টো পিঠে আছে ক্যান্সার জয় করে বাঁচার স্বপ্নও। তাদেরই একজন জাহান-ই-গুলশান বলেন, দেশে সমন্বিত ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে নির্ভর করতে হচ্ছে।
মহাখালি ক্যান্সার হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। গবেষণা বলছে, প্রায় ২০ ধরনের ক্যান্সারে প্রতি বছর আক্রান্ত হয় দেড় লাখের বেশি মানুষ।
এসবের মধ্যে স্তন ক্যান্সার, লাং ক্যান্সার, কোলোরেক্টাম ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার, স্টমাক ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
বর্তমানে দেশে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। খরচ মেটাতে ১৭ শতাংশ মানুষ চলে যায় দারিদ্র্যসীমার নীচে।
খরচ বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ রোগের শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে আসেন না। তাই জাতীয়ভাবে ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর তাগাদা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, তামাকমুক্ত থাকা ও পরিবেশ দূষণরোধে ব্যবস্থা নিতে পারলেই ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা কমানো সম্ভব বলে বলে আসছেন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
একাত্তর/টিএ
