গণমাধ্যমকর্মী আইন বাতিল করার কথা না বলে সংশোধনের দাবি জানাতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার, সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী একথা জানান।
গণমাধ্যমকর্মী আইনটি সাংবাদিকদের সুবিধার জন্যই করা হয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, কিন্তু এটা নিয়ে যেহেতু আপত্তি আছে, সে জন্য এটা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুস্থ সাংবাদিকতা বন্ধ করার জন্য এই সরকার কোনও আইন করেনি, করবেও না।
গণমাধ্যমকর্মী আইন পাস হওয়ার পর কোনও সংবাদকর্মীকে মালিক অবসরে যেতে বাধ্য করতে পারবে না বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এই আইনে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর বলার অর্থ হলো, স্বেচ্ছায় কোনও সংবাদকর্মী চাইলে অবসরে যেতে পারবে। তবে বাধ্য করা যাবে না।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা না করে যারা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে ভুল তথ্য দেয়, তাদের চিহ্নিত করতে কিছু আইন করার প্রয়োজন আছে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহার করে সমাজকে ভাগ কারার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা বন্ধ করার জন্যই আইন করা হচ্ছে।
স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা দিতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করা হয়নি উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, যারা ডিজিটাল মাধ্যমকে অপব্যবহার করে নানা কাজ করার চেষ্টা করে, সেটা মোকাবিলা করতেই সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করেছে।
তিনি বলেন, এ আইনে অনেক অহেতুক মামলা করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এ আইনে মামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়, আমরা সে ব্যবস্থা নিয়েছি। এর ফলে এখন যত্রতত্র গ্রেপ্তার হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কেউ অপমান আর অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ সেটা দাঁড়িয়ে দেখবে না। এ জন্য একটা আইন থাকা উচিত। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট না করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুল ব্যবহারের অভয়ারণ্য হবে দেশ।
আরও পড়ুন: কোভ্যাক্সের আওতায় সবচেয়ে বেশি টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ: ইউনিসেফ
আইনমন্ত্রী জানান, ইউটিউব ব্যবহার করে যারা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কাউকে হেয় করার চেষ্টা করে, তাদের একটা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। শিগগিরই ইউটিউব ব্যবহারের একটি নীতিমালা করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ এর সভাপতি তপন বিশ্বাস। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।
একাত্তর/আরএ
