মিয়ানমারে সেনা অভ্যুথানের পর থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায়, মার্চ এপ্রিলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি।
বিজিবি সূত্র আরো জানায়, শুধু এপ্রিল মাসেই ১০৪ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এরই মধ্যে কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা ৩১ জন রোহিঙ্গা টেকনাফ ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ২১ এপ্রিল থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ নতুন করে আর একজন রোহিঙ্গাকেও গ্রহণ করতে রাজি নয়। ভাসানচর এবং টেকনাফ থেকে সকল রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।
টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বর্গ মাইলে ৮৪ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছে। সেজন্য ভাসানচরে কিছু রোহিঙ্গা স্থানান্তর করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে খুবই আগ্রহী; কিন্তু ভাসানচর কোনভাবেই রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাসস্থল নয়, বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই না তারা এখানে অনেক দিন থাকুক, আমরা চাই তারা তাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বারবার চেষ্টা করলেও, মিয়ানমারের নতুন সামরিক সরকারের কাছ থেকে কোন সাড়া পায়নি বাংলাদেশে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, 'সামরিক সরকার বিভিন্নভাবে জানিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের চুক্তি এবং ব্যবস্থাপনাগুলো তারা মেনে চলবে। তার মানে তারা তাদের লোকগুলোকে ফেরত নিয়ে যাবে।'
মিয়ানমারে সামরিক সরকারের সাথে নতুন করে বাংলাদেশের কোন কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা দিবস উৎযাপনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিল বলে জানা যায়।
একাত্তর/এমএইচএ
