দুই বছর পর জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাত

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২২, ১২:০৯ পিএম

ত্যাগের আহ্বান আর উৎসবের আমেজ নিয়ে শুরু হয়েছে ঈদুল আজহা। ঈদগাহ আর মসজিদে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজে অংশ নিয়েছেন সকল শ্রেণি, পেশা আর বয়সের লাখো মুসলমান।

রোববার (১০ জুলাই) সকাল ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এবারের কোরবানির ঈদের প্রধান জামাত হয়। সেখানে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি রুহুল আমিন।

নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনাভাইরাসের মহামারীসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি চেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। ‘বালা মুসিবত’ থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয় আল্লাহর কাছে।

সারা বিশ্বের মুসলিমদের শান্তি কামনার পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শহীদ সদস্য, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা স্মরণ করে তাদের জন্যও আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কামনা করে মোনাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

দুই বছর পর কোরবানির ঈদের প্রধান জামাত এবার ফিরেছে জাতীয় ঈদগাহে; কোভিড সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে থাকায় সবাইকে মানতে হয়েছে কিছু বিধিনিষেধ। ঈদ জামাতে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাতে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল।

মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ  জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশ নেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রোববার সকালে কোরবানির ঈদের প্রথম জামাত। ছবি: মাহমুদ জামান অভিবায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রোববার সকালে কোরবানির ঈদের প্রথম জামাত। ছবি: মাহমুদ জামান অভিমহামারীর কারণে গত দুই বছর চারটি ঈদে ঈদগাহ ছিল আয়োজনশূন্য। কোভিডবিধির কড়াকড়িতে ঈদ জামাত সীমিত ছিল চার দেয়ালের ভেতর, কোলাকুলিতেও ছিল মানা।

সংক্রমণ কমে আসায় এবার রোজার ঈদে উৎসবের পুরনো মেজাজ ফেরে, মে মাসে রোজার ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহেই হয়। তার ধারাবাহিকতায় কোরবানির ঈদের প্রধান জামাতও সেখানেই হল। এবার একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

প্রধান ঈদ জামাত ঘিরে নিরাপত্তার বন্দোবস্তুও ছিল।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে ঈদগাহ এলাকায়।

প্রতিবছরের মত এবারও ঈদুল আজহার দিনে পাঁচটি জামাত হবে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। সকাল ৭টায় সেখানে প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

আষাঢ়ের শেষ সময়ে এবারের কোরবানি ঈদের দিন ভারি বর্ষণের শঙ্কা নেই বলে আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর; তবে দিনের যে কোনো সময় বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি হওয়ার আভাস রয়েছে।

ঈদের সকালে ঢাকার আকাশে ছিল হালকা রোদ। তাই মুসলমানদের ঈদের নামাজে বৃষ্টির বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি।

ঈদ জামাত শেষে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন পশু কোরবানির তোড়জোড়ে। এবার ঢাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু জবাই করার জন্য আলাদা স্থান বেঁধে দেওয়া হয়নি। বরাবরের মতই নগরজুড়ে রাস্তা ও অলিগলিতে পশু জবাইয়ের দৃশ্য দেখা গেছে। 

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রোববার সকালে কোরবানির ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি। ছবি: মাহমুদ জামান অভিবায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রোববার সকালে কোরবানির ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি। ছবি: মাহমুদ জামান অভিমুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ঈদ জাতীয় উৎসবে রূপ নেয়। ঈদে তিন দিন সরকারি ছুটি থাকে। জুন মাসের বন্যায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণার বহু পরিবারে এবার সেই উৎসবে কষ্টও মিশে থাকবে।

কেবল বন্যা দুর্গতরা নন, মহামারীর দুই বছরের ধাক্কা, ইউক্রেইন যুদ্ধের জেরে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট মিলিয়ে উৎসবের ঈদে স্বস্তি পাবেন না আরও অনেকে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এবার সব ধরনের আলোকসজ্জায় নিষেধ করা হয়েছে। আরও অনেক ক্ষেত্রেই কৃচ্ছ্রের পথে হাঁটতে হচ্ছে সরকারকে। মানুষকে ব্যয় কমানোর, সঞ্চয় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “কোরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

বিগত দুটি বছর বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব করোনা মহামারীর বিভীষিকার মধ্যেই ঈদুল-আজহা উদযাপন করেছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও ভবিষ্যৎ সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”

রাষ্ট্রপতির ঈদের বাণীতে এসেছে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতার কথাও। তিনি বলেছেন, “করোনা মহামারী ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী নিম্নআয়ের মানুষ নানা সীমাবদ্ধতার মাঝে দিনাতিপাত করছে। তারাও যাতে ঈদের আনন্দ হতে বঞ্চিত না হয় এবং ঈদোৎসবে শামিল হতে পারে, সেলক্ষ্যে আমি দেশের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত হলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য।”

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “করোনাভাইরাস আবার মাথাচাড়া ‍দিয়ে উঠেছে। আল্লাহ বিপদে মানুষের ধৈর্য পরীক্ষা করেন। এ সময় সকলকে অসীম ধৈর্য নিয়ে সহনশীল ও সহানুভূতিশীল মনে একে অপরকে সাহায্য করে যেতে হবে।

“পাশাপাশি আমি এই মহামারীতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার অনুরোধ জানাই। আমরা যেন ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি এবং আল্লাহ তায়ালার দরবারে বিশেষ দোয়া করি যেন এই সংক্রমণ থেকে সবাই দ্রুত মুক্তি পাই।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আসুন, আমরা সকলে পবিত্র ইদুল-আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমি প্রত্যাশা করি, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জীবনে সুখ ও আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে।”


একাত্তর/এসএ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জবাবদিহিতার নতুন সংস্কৃতি তৈরি করতে চান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। 
দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। 
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
ঈদের আমেজ কাটিয়ে প্রথম কার্যদিবসেই সচিবালয়ে নিজ দফতরে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর