সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছেন, গাইবান্ধা উপ-নির্বাচনে অনিয়মে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে আগামী নির্বাচনগুলোতে অনিয়ম হলে একই পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, বুধবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় এই বৈঠকে বসছে ইসি। এতে সাবেক সিইসি, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও ইসির সাবেকদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক হয়।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রউফ বলেন, একজনের ভোট যদি আরেকজন দিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন চুপ থাকবে কেন? চোখের সামনে এসব দেখলেই নির্বাচন বন্ধ করা উচিত।
আরেক সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা বলেন, যতদূর পারা যায় ইভিএম ব্যবহার কার জরুরী। এখানো আমাদের দেশে ভোট ডাকাতি হয়। ইভিএম-এ সেই সুযোগ নেই।
এদিকে নিজের বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, গাইবান্ধা উপ নির্বাচনে অনিয়মে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে আগামী নির্বাচনগুলোতে একই পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমারা আমাদের কাজ করেছি।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ইভিএমে সূক্ষ্ম কারচুপি সম্ভব। বাইরে কোনো হইচই নাই, কিছু নাই, অথচ ভেতরে কী হচ্ছে, গাইবান্ধায় যেটা আমরা দেখলাম। অন্য সিস্টেমে হলে (ব্যালট পেপারে কারচুপি) বাইরেও হইচই হতো। সেটা আরও ভালো করে দেখতে পারতেন। কারণ কেন্দ্র ক্যাপচার করতে তো লোকবল লাগবে।
তিনি বলেন, গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচনে যে পদক্ষেপ নিয়েছে আমি তাদের স্বাগত জানিয়েছি। এই পর্যন্ত ঠিক আছে, পরের ধাপগুলোতে যেন স্লিপ না করেন। যদি করেন, তাহলে জাতির কাছে অন্যরকম একটা মেসেজ যাবে, যে আপনারা এইটুকু দেখানোর জন্য করলেন। বাকিটুকু করলেন না। এজন্য আইন আপনাদের শক্ত অবস্থানে যেতে বলেছে, প্লিজ ডু ইট। আর নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে পরিবেশ ঠিক নেই, তাহলে নির্বাচন বন্ধ করতে পারেন। কোথাও কোনো বাধা নেই। কারণ সংবিধানের ১১৯ ধারা বলে আপনার কাজ হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। বাকিটা আপনাদের চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।
এর আগে, গত ৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ ও অন্যান্য নির্বাচন নিয়ে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অতিরিক্ত আইজিপিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তর/এআর
