রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের জান্তা সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আগের আলোচনার ভিত্তিতেই বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার কথা বলছে মিয়ানমার।
তবে, বরাবরের মতোই রোহিঙ্গা নাগরিকদের সনাক্তকরণের পরই প্রত্যাবাসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশটি। আসছে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গেলো পাঁচ বছরে নানা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার আহবান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। সবশেষ জাতিসংঘে দেয়া ভাষণেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়াকেই সমাধান বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা সময়ের ব্যবধানে বেড়ে হয়েছে প্রায় ১২ লাখ। কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো উদ্যোগেই কার্যকর সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। তাই আলোর মুখও দেখেনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন।
গেলো ১৩ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং প্রথমবারের মতো জানিয়েছিলেন, তাঁর দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছে, যা নিয়ে তিনি আশাবাদী। এ সংক্রান্ত অগ্রগতি তাঁরা যথাসময়ে জানাবেন।
এরপরই বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। একান্ত এই বৈঠক শেষে নিজ মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগের আলোচনার ভিত্তিতেই মিয়ানমার প্রত্যাবাসনে রাজি হয়েছে। আর এ বিষয়ে চীনের সাথে দেশটির সুসম্পর্ককে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন জানান, আসছে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশা রাখে বাংলাদেশ। আপাতত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিককে তাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে পঞ্চম: পলক
মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের লোকেরা ক্যাম্প ভিজিট করলে রোহিঙ্গারা ভরসা পাবে।
এদিকে, সীমান্তে মর্টার শেল পড়ার মতো আর কোনো উত্তেজনা ছড়াবেনা বলে নেপিদো বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে বলেও জানান তিনি ।
একাত্তর/এআর/এসজে
