গাইবান্ধা-৫ আসনের (সাঘাটা-ফুলছড়ি) উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি পেয়েছেন ৭৮ হাজার ২৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটবর্তী প্রার্থী জাতীয় পার্টি মনোনীত অ্যাডভোকেট এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৭৫২।
বুধবার (০৪ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে দুই উপজেলার ১৪৫ কেন্দ্রের ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে ১৪৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে একটানা ভোটগ্রহণ চলে। এবারও কেন্দ্রগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে ১ হাজার ২৪২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
সর্বমোট ১৪৫ কেন্দ্রের মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার ৫৭ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ২৩ হাজার ৭৮৭ ভোট ও লাঙল প্রতীক পেয়েছে ১২ হাজার ২৯৩ ভোট। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার ৮৮টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক ৫৪ হাজার ৪৯৮ ভোট এবং লাঙল প্রতীক পেয়েছে ৩২ হাজার ৪৫৯ ভোট। ফলে ৩৩ হাজার ৫৩৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন মাহমুদ হাসান রিপন।
গাইবান্ধা-৫ আসনের (সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলায়) ১৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ১৬০ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৩। দুই উপজেলা মিলে ভোটকেন্দ্র ১৪৫ এবং বুথের সংখ্যা ৯৫২।
এদিকে, বিকেলে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। তবে নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি। এবারের ভোটের শুরুতেও পরিবেশ সুন্দর ছিল, সমাপ্তিটাও চমৎকার হয়েছে। সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খলভাবে সুন্দর ভোট হয়েছে। সেদিক থেকে নির্বাচনটা সফল হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া নিউইয়র্কের মাউন্টসিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়। পরে নির্বাচন কমিশনার আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি : সিইসি
পরে ১২ অক্টোবর বুধবার শূন্য আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটের অনিয়ম হওয়ায় ওই দিন দুপুরের দিকে নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। এ উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মো. মাহমুদ হাসান রিপন এবং লাঙলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু ছাড়াও ভোটে লড়ছেন বিকল্পধারার জাহাঙ্গীর আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।
তবে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ গত ২৫ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
একাত্তর/এসজে
