প্রথম আলো দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের শত্রু: শেখ হাসিনা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ১০:২২ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রথম আলো আওয়ামী লীগের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। তারা গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে অগণতান্ত্রিক সরকার আনতে চাচ্ছে। এই পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা আওয়ামী লীগের শত্রু, দেশের শত্রু ও জাতির শত্রু।

সোমবার দুপুরে সুবর্ণজয়ন্ত্রী উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, পত্রিকাটি নাম প্রথম আলো… কাজ করে অন্ধকারে। একটা শিশুর হাতে ১০টাকা তুলে ধরে এ রকম মিথ্যাচার করতে পারে! পত্রিকাটি আওয়ামী লীগের শত্রু, দেশের শত্রু ও জাতির শত্রু। এরা শুরু থেকেই আমাদের বিরোধীতা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট্ট একটা শিশুর হাতে ১০টা টাকা দিয়ে তাকে দিয়ে একটা মিথ্যা বলানো, শিশুর মুখ থেকে কিছু কথা বলানো। কি কথা- ভাত, মাছ, মাংসের স্বাধীনতা চাই। একটা সাত বছরের শিশু তার হাতে ১০ টাকা তুলে দেওয়া এবং তার কথা রেকর্ড করে সেটা প্রচার করা। স্বনামধন্য এক পত্রিকা, খুবই পপুলার নাম তার প্রথম আলো, কিন্তু বাস করে অন্ধকারে।

image

সংসদ নেতা আরও বলেন, আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলি, এরা এই দেশে কখনই স্থিতিশীলতা থাকতে দিতে চায় না। ২০০৭ সালের যখন ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা) হয় তখন তারা উৎফুল্ল। দু’টি পত্রিকা আদাজল খেয়ে নেমে গেলো, বাহবা কুড়ালো। আর তার সঙ্গে আছে একজন সুদখোর, বড় প্রিয় আমেরিকার। আমেরিকা একবারও জিজ্ঞাসা করে না একটা ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক এটি তো একটা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। সরকারের বেতন তুলতো যে এমডি, সে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কোথায় পেলো যে, আমেরিকার মতো জায়গায় সামাজিক ব্যবসা করে। দেশে-বিদেশে এই অর্থ কোথা থেকে আসে এটা কি জিজ্ঞাসা করেছে? কখনও তারা জিজ্ঞাসা করেনি।

হাসিনা বলেন, এদের কাছ থেকে দুর্নীতির কথা শুনতে হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ, এদের কাছ থেকে মানবতার কথাও শুনতে হয়। যারা গরিবের রক্তচোষা টাকা পাচার করে বিদেশে বিনিয়োগ করে শত কোটি টাকার মালিক হয়, আবার আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পায়। এই সব লোকই এদেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।

এ সময় সংসদ নেতার বক্তব্যের সমর্থনে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে ‘ঠিক, ঠিক’ উচ্চারণ করেন। কেউ কেউ বলতে থাকেন, ‘শেইম, শেইম’।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে এসে নাকি কিছুই দেয়নি। দেশ নাকি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা রক্ত দিয়ে, সংগ্রাম করে স্বাধীনতা এনেছি। এই স্বাধীনতার সুফল বাংলার মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়াটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। নিজেদের ভাগ্য গড়তে আসিনি।

১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনটির জন্যই আমরা আজ স্বাধীনতার ইতিহাস বলার সুযোগ পেয়েছি। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি।

জাতীয় সংসদ জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। যারা সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছিল তারা দেশকে কিছু দিতে পারেনি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য তাদের থেকে আমাদের গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়।

image


সরকারপ্রধান আরও বলেন, এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ হবে, যে বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা কথায় কথায় গণতন্ত্র, মানবাধিকারের ছবক দেয়। অথচ তাদের দেশে স্কুলে, শপিংমলে গুলি করে মানুষ মারা হয়। তারা বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে রেখেছে। সেখানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার কোথায় এমন প্রশ্ন তুলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছে, নিজেদের নয়।  

তিনি বলেন, আমেরিকা তাদের গণতন্ত্র চর্চা করে আটলান্টিকের পাড় পর্যন্ত। এটা পার হয়ে গেলে আপনাদের গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটা কি পাল্টে যায়? কেন আপনারা একটা মিলিটারি ডিকটেটরকে সমর্থন দিচ্ছেন? আমি এই প্রশ্নটা করেছিলাম, আজকেও বলি।

শেখ হাসিনা বলেন, যে দেশটা আমাদের কথা কথায় গনতন্ত্রের ছবক দেয়, আমাদের বিরোধী দল থেকে শুরু করে কিছু কিছু লোক তাদের কথায় খুব নাচন কোদন করছেন, ওঠবস করছেন, উৎফুল্ল হচ্ছেন। হ্যাঁ, তারা যে কোনো দেশে ক্ষমতা উল্টাতে পারে, পাল্টাতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে আরও বেশি কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে…।

উল্লেখ্য জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এ বছর ৭ এপ্রিল সংসদের ৫০ বছর পূর্ণ উপলক্ষে সংসদের এ বিশেষ অধিবেশন। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে জাতীয় সংসদের ইতিহাসে প্রথম বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে।


একাত্তর/এসি/এআর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. রাশেদ খাঁন। 
মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য বা উপদেষ্টার কার্যক্রমে সন্তুষ্ট না হলে প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় তার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা নতুন কাউকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও...
জর্ডানে ইরানের সামরিক অভিযানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এবার মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো এবং তৎকালীন সময়ে সংঘটিত...
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চুরি ও পকেটমারির অভিযোগে একটি চক্রের ছয় নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা ও আনসার সদস্যরা। 
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর