বাইক চালকদের নিয়ম মেনে পদ্মা সেতু পারাপারের আহবান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নিয়মের কোনও ধরণের ব্যত্যয় ঘটলে আবারও মোটরসাইকেল বন্ধ করে দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতু পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
৯ মাস বন্ধ রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ দিন থেকে বাইক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে পদ্মা সেতু। ভোর ছয়টা থেকে নিয়ম মেনে বাইকাররা পার হচ্ছেন দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই সেতু।
ঈদযাত্রা উপলক্ষ্যে এদিন পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা পরিদর্শনে যান ওবায়দুল কাদের। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, যারা মটর সাইকেলে যাতায়াত করবেন, তারা অবশ্যই দায়িত্বশীল হবেন। নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলবেন।
বাইক চালকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘তবে কোন কারণে অচলাবস্থা হলে আবারও মোটরসাইকেল বন্ধ করে দেয়া হবে।’
কাদের বলেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দিয়েছেন। অনিয়মের কারণে এর আগে চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত হয়েছে, তাই আবারো মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
উদ্বোধনের পরে র দিন গত বছরের ২৬ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় বহু আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু। কিন্তু এর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সেতুতে বাইক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
যান চলাচল শুরুর দিনই বাইক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। হাজার হাজার বাইকের চাপে সেতুতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এই অবস্থার মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগর একমাত্র ও প্রধান এই সেতুতে বাইক চালানো নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৯ মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে মোটরসাইকেলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেয়া হয়। তবে বাইকারদের জন্য জুড়ে দেয়া হয়েছে বেশকিছু শর্ত।
এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, সেতুর বাম পাশের সার্ভিস নির্দিষ্ট লেন দিয়ে বাইক চালাতে হবে, কোন অবস্থাতেই নির্ধারিত লেন পরিবর্তন করা যাবে না, ওভার টেক করা যাবে না, গতি ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে, চালক ও আরোহী দুজনকেই মানসম্মত হেলমেট পরতে হবে, কোন অবস্থাতেই সেতুর উপর দাঁড়ানো বা ছবি তোলা যাবে না, চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন মোটরসাইকেলে চড়তে পারবেন এবং সেতুর জন্য নির্ধারিত টোল দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টোল প্লাজায় পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। সেতুর দুই পাশের সার্ভিস লেন দিয়ে চলাচল করছে বাইকগুলো।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু অভিমুখে হাজারো মোটরসাইকেল
ভোর থেকেই পদ্মা সেতু উত্তর থানা মোড় থেকে সারিবদ্ধভাবে টোল প্লাজায় পৌঁছে নির্ধারিত টোল দিয়ে সেতুতে উঠতে পারছে মোটরসাইকেল আরোহীরা। ডেডিকেটেড লেনসহ মাওয়া টোল প্লাজার দুটি বুথ দিয়ে আদায় করা হচ্ছে টোল।
এদিকে পদ্মা সেতু পারাপারের মাওয়া টোল প্লাজা থেকে অভিমুখের সড়ক জুড়ে ভোরেই জড়ো হয় কয়েক হাজার মোটরসাইকেল। বুধবার গভীর রাত থেকে সেতুতে পারাপারের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে টোল প্লাজার অভিমুখের সড়কে অবস্থান নেন বাইকাররা।
তবে বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জটলা কমতে শুরু করে।
একাত্তর/আরবি
