মহাপরাক্রমশালী অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্নস্থানে আট থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এছাড়া ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ভোলা জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ থেকে সাত ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আরও শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার ভোরে বাংলাদেশের কাছাকাছি এসে গেছে।
রোববার ভোর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ঝড়, বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে। এর প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও পাহাড়ধস হতে পারে।

শনিবার ভোর ৬টায় ঘূর্ণিঝড় মোখা চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা ঘূর্ণন গতি রয়েছে ১৬০ কিলোমিটার, যা ১৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চর ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এর আগে বলা হয়েছিল, ঝড়টি উপকূলের কাছাকাছি এলে এর কেন্দ্রে বাতাসের ঘূর্ণন গতি হবে ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার। এই গতি দমকা, ঝড়সহ ১৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এত গতিতে বাংলাদেশে এর আগে যেসব ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে তাতে কমবেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে ফসল, মৎস্য খামার, গবাদিপশু, পাখি ও গাছপালার প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
একাত্তর/আরবি
