আমদানি করা গ্যাসের ভাসমান টার্মিনাল প্রস্তুত হতে আরো সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। টার্মিনালটি প্রস্তুত হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে বলেও জানান তিনি।
শনিবার ঢাকা চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সরবরাহে পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি টার্মিনালের একটি টার্মিনাল থেকে আমদানি করা গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অপরটি চালু হলে শিল্প কারখানাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস দেয়া হবে।
এছাড়া গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ভবিষ্যতে সব ধরনের জ্বালানির দাম বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশেও নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশ ২০৩০ থেকে ৪০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলকে পৌঁছানোর লক্ষ্য স্থির করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট উৎপাদন ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার প্রয়োজন।
শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ প্রদান করা সহজতর হবে।
নসরুল হামিদ বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে জ্বালানির দাম সমন্বয় করবে। এটি একটি কোয়ার্টারলি অ্যাডজাস্টমেন্ট মডেল অনুসরণ করতে পারে। পর্যায়ক্রমিক মূল্য সমন্বয় কাঠামো একটি স্টেকহোল্ডার-নেতৃত্বাধীন মডেল হবে, যেখানে ব্যবসায়িক সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে মুক্তবাজার অর্থনীতির কাঠামো অনুসরণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সঞ্চালন ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, অফশোর এলাকায় তেল/গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে, সরকার অফশোর মডেল পিএসসি আপডেট করছে, যা অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে বুট ভিত্তিতে ১০০০ এমএমসিএফডি রি-গ্যাসিফিকেশন ক্ষমতার একটি ভূমিভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। অবৈধ সংযোগ খুঁজে পেতে সরকারকে সহায়তা এবং সময়মতো গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি বাস্তবায়ন করতে সম্মিলিত ও সমন্বিতভাবে কাজ করা অপরিহার্য।
ডিসিসিআই’র সভাপতি ব্যারিস্টার সমীর সাত্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ফয়সাল করিম খান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান খান চৌধুরী, এফআইসিসিআই’র সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, এনার্জি ও পাওয়ার মোল্লাহ আমজাদ বক্তব্য রাখেন।
দেশে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে ২৫ শতাংশেরও বেশি চাহিদা পূরণ করা হয়। আমদানি করা এসব এলএনজি মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসার জন্য মহেশখালীর অদূরে দুটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করা আছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ ধেয়ে আসতে থাকায় ভাসমান টার্মিনাল দুটি নির্ধারিত স্থান থেকে গভীর সমুদ্রের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে ওই দুটি টার্মিনাল থেকে এতদিন দৈনিক গড়ে যে ৭০০ এমএমসিএফ গ্যাস আসত তা বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালায়ের তরফে দুঃখ প্রকাশ করে এক বার্তায় বলা হয়, ঝড়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে গভীর সমুদ্রে সরিয়ে নেওয়া টার্মিনাল দুটি দ্রুত পুনঃস্থাপন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় ১৮ করোনা রোগী শনাক্ত
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মে মাসের হিসেব মতে, এখন দেশে দৈনিক ১১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট থেকে ১৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এসব বিদ্যুতের প্রায় ৪৯ শতাংশই আসে বিভিন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প কারখানার পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ
