সমালোচনা করেই সিপিডি তাদের তহবিল সংগ্রহ করে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, পাণ্ডিত্য দেখানোর জন্য সিপিডি সব সময় বাজেটের নেতিবাচক সমালোচনা করে। প্রতিবারেই বাজেট নিয়ে তাদের গৎবাঁধা বক্তব্য থাকে।
শুক্রবার সকালে মিন্টু রোডের নিজ সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা জানান। এ সময় বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়াও দেন তথ্যমন্ত্রী। খেদের সঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, গেলো ১৪ বছরেও সিপিডি কোনদিন বাজেটের প্রশংসা করতে পারেনি।
বাজেট নিয়ে বিএনপির বক্তব্যকে প্রতিহিংসার রাজনীতি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নিজেরা লুটপাট নীতিতে বিশ্বাসী তাই তারাও লুটপাটই দেখেন। অথচ তারা লক্ষ্য করেন না বাজেটে এবার সর্বজনীন সুবিধার কথা চিন্তা করা হয়েছে। চিন্তা করা হয়েছে সর্বজনীন পেনশনের বিষয় যা এযাবৎকাল কোন রাজনৈতিক দলই চিন্তা করেনি।
আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে এ বাজেট লুটপাটের- বিএনপির এমন সমালোচনা খণ্ডন করে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি'র অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে বাজেট দিতে প্রতিবার বাজেটের আগে প্যারিস কনসোর্টিয়ামে ছুটে যেতেন সাহায্যের জন্যে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজেট কোনভাবেই বিদেশি সাহায্যনির্ভর নয়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা বাজেটটি ঠিকমতো পড়েনি। কারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাজেটে অনেক ধরনের আলাপ করা হয়েছে। তবে শুধু বাজেটের মধ্যে লিপিবদ্ধ থাকলেই হবে না এ নিয়ে বাইরে কাজ করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, করের বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক, করের আওতায় থাকার পরেও এ দেশের মানুষ কর দিতে চায় না। ২০০৯ সালে ১১ লক্ষ মানুষ আয়কর দিতো, গত বছর ২৯ লক্ষ মানুষ আয়কর দিয়েছে। অথচ দেশে অন্তত ২ কোটি মানুষ আয়কর দিতে সক্ষম। কিন্তু মানুষ কর দেয় না। তাই করের আওতা বাড়ানো অযৌক্তিক নয়।
আরও পড়ুন: আইএমএফের পরামর্শে বাজেট করিনি: অর্থমন্ত্রী
প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী ও গরিববান্ধব বলে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, পিপিপিতে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি) ২০০৯ সালের একশ বিলিয়ন ডলার জিডিপির তুলনায় এখনকার জিডিপি এক ট্রিলিয়ন প্লাস ডলার, অর্থাৎ প্রায় দশগুণ বড়, যা নিঃসন্দেহে দেশের অগ্রগতি সমৃদ্ধির পরিচায়ক।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বময় মন্দা, ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকটের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শৈথিল্য আসায় বাজেট প্রণয়ন বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো তারপরও এবারের বাজেট গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লক্ষ হাজার কোটি টাকা বেশি।
একাত্তর/এসজে
