জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার মহান স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
জন্মের মতো মৃত্যুও সত্য। কিন্তু যে নির্মম, নিষ্ঠুরভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয় আর সবার থেকে আলাদা করে টুঙ্গিপাড়ায় সমাহিত করা হয় সেটি সব নির্মমতাকে ছাড়িয়ে যায়।
কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলার যে ইচ্ছে ছিল খুনিদের তা পূরণ হয়নি। কারণ বঙ্গবন্ধুর এই সমাধিক্ষেত্র আজও শক্তি যোগায় বাঙালিদের।
শোকাবহ এই দিনে ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে পিতার কাছে আসেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুন সুর বাজানো হয়।
ছোট বোন শেখ রেহানা ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের শিকার অন্যান্য শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। মোনাজাতে দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও কামনা করা হয়।
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরে দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আরও একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে মন্ত্রিসভার সদস্য, তার উপদেষ্টাগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে, জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর আজ সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক নিবাস টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে শহীদদের কবরেও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। সেখানেও তিনি ফাতেহা পাঠ করেন ও মোনাজাতে যোগ দেন।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তার তিন ছেলে: শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ও তার তিন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের কাল রাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
একাত্তর/জো
