জনগণের স্বার্থকে বিবেচনায় রেখেই জাতীয় ঐক্যমতে পৌঁছানোর কোনো বিকল্প নেই। আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই এ বিষয়ে পথ বের করার তাগিদ দিলেন বিশিষ্টজনরা।
শনিবার সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ডের ‘ভূ-রাজনীতির আলোচনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তারা বলেন, তা না হলে বিদেশি শক্তি বারবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর সুযোগ পাবে।
আলোচকরা বলেন, এখনো দেশের বিষয়ে বহিঃবিশ্বের দিকে তাকিয়ে থাকায় বিদেশিদের নাক গলানোর সুযোগ রয়েই গেছে। যা সামনের দিনে দেশের জন্য ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নির্ধারণ করবে বিদেশি শক্তিরা সেটাই আমাদের ভয়ের বিষয়। সেটা যেন না হতে দেওয়া হয়।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, গভর্ন্যান্সের জায়গাটা আমার মনে হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আরও দায়িত্ব নিয়ে আরও আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ বলেন, কোন দেশে কোন সরকার থাকবে, সেটি যদি আমাদের উপনিবেশবাদ বা সাম্রাজ্যবাদের দেশগুলো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কোথায়?
সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, গ্লোবাল সাউথে আমাদের শক্ত সেরকম প্রতিনিধিত্ব দেখি না। যেটা ব্রিকস হতে পারতো।
ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও অভ্যন্তরীন বিষয়ে ঐক্যমতের কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন আলোচকরা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিম বলেন, সক্ষমতা আছে, কিন্তু আমাদের সদিচ্ছা আছে কিনা সেটা হলো কথা। আমরা একা একা চলবো, এটা একবারই আমরা করেছিলাম।
অর্থনীতিবিদ ড.জাইদি সাত্তার বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়-এটা বেস্ট পলিসি।
সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা কঠিন। এটা রাজনৈতিক বিষয়। কিন্তু এই অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিষয়কে বিভাজন করে বস্তুনিষ্ঠভাবে চিহ্নিত করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন বলেন, নিজেদের রাজনীতির স্বার্থে ঊর্ধ্বে উঠে এমন একটা জিনিস আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে এমনতো আছে যারা বিশ্লেষণধর্মী বা সেরকম বিষয়গুলো লিখতে পারেন।’
আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই জাতীয় ঐক্যমতের পথ বের করার তাগিদ দেন বিশিষ্টজনরা।
গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ভূ-রাজনীতি থাকবে। ভূ-অর্থনীতি থাকবে। আরও অপপ্রচার থাকবে, আরও নানারকম পদক্ষেপও থাকবে, বিভাজনও আছে কিন্তু এর মোকাবেলা করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ও সঠিক অবস্থান নিয়ে আগামী সাড়ে তিনমাস মোকাবেলা করতে না পারি তবে আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।
