দেশের সবচেয়ে নান্দনিক রেলস্টেশন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে, প্রায় প্রস্তুত রেলপথও; চলতি বছরের মধ্যেই ঢাকা থেকে কক্সবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই। এরপর তিন মাসের মধ্যেই অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকেই দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারের পৌঁছে যাওয়া যাবে ট্রেনে চেপে। সড়কপথে বাসের দীর্ঘ সময়ের যাত্রা থেকেও মিলবে মুক্তি।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথ বহু পুরানো। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। মাঝে বন্যার কারণে খানিকটা বাধা পড়লেও শিগগিরিই কাজ শেষের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এরপরই শুরু হবে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা ও শৈল্পিক সৌন্দর্যে সেজে উঠছে কক্সবাজারের ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেল স্টেশান।
কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন
কী নেই এই ঝিনুক আকৃতির এই আইকনিক রেলস্টেশনে! নিচতলায় থাকছে টিকেট কাউন্টার, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, শপিংমল ও রেস্তোরাঁ। কক্সবাজারের আইকনিক স্টেশনে থাকছে তারকা মানের হোটেল, মসজিদ, শিশু যত্ন কেন্দ্র ও চলন্ত সিঁড়ি। আছে এটিএম বুথ, পোস্ট অফিস, ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন বুথসহ নানা সুবিধা।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই অত্যাধুনিক রেলস্টেশনে এক সাথে সময় কাটাতে পারবেন অন্তত ৪৬ হাজার যাত্রী। স্টেশনের প্রায় সব কাজই শেষ। চলছে শেষ মুহূর্তের কিছু সাজ সজ্জার কাজ।
দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেল স্টেশনটির দূরত্ব সমুদ্রসৈকত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে চান্দেরপাড়া এলাকার। ২৯ একর জমির ওপর ২২৫ কোটি টাকা তোলা হয়েছে দেশের সব থেকে সুন্দর রেল স্টেশনটি।
১ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের ছয়তলা ভবনের রেলস্টেশনে চারদিকে গ্লাস ফিটিংস ও চীন থেকে আনা স্টিলের ক্যানোফি স্থাপন করা হয়েছে।
দোহাজারি-কক্সবাজার রেলপথ
দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ১০টি স্টেশন। এগুলো হলো- কক্সবাজার, রামু, ইসলামাবাদ, ডুলাহাজারা, চকরিয়া, হারবাং, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও দোহাজারী।
আর ১০০ কিলোমিটার দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইনের কাজ শেষ হয়েছে ৯৬ শতাংশ। বাকী অংশের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। নতুন এই রেলপথে শিগগীরই শুরু হবে ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচল।
১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ কিলোমিটারের এই রেলপথ চালু হলে পর্যটনের নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। কম খরচে বিলাসবহুল ট্রেনে চড়ে পর্যটকেরা বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেখার সুযোগ পাবেন।
চলতি বছরে শেষ ভাগেই পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে মনে করছেন কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যেই ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রায়াল রান শুরু হবে। আর এরপর শুরু হবে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল।’
দূরত্ব, সুবিধা ও টেন ভেদে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের ভাড়াও আলাদা হবে বলে জানালেন আবুল কালাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, কিলোমিটার ও ট্রেনভেদে ভাড়া হবে। আন্ত:নগর ট্রেনের জন্য এক রকম। লোকাল ট্রেনের জন্য আরেক রেট, আবার স্লিপারের জন্য হবে ভিন্ন ভাড়া।
আরবি
স্বপ্ন বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে 