চলমান বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন হতে যাচ্ছে অক্টোবরে। চালু হবে বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর পদ্মা রেলসেতুসহ একগুচ্ছ প্রকল্প। এসব প্রকল্প চালু হওয়াকে নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বলছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। দেখছেন আগামী নির্বাচনে বিজয়ের ট্রাম্প কার্ড হিসেবেও।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। এই টার্মিনালে থাকবে মোট ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ। ১৫টি সেলফ সার্ভিসসহ বহির্গমনের জন্য থাকবে মোট ১১৫টি চেক ইন কাউন্টার। এ ছাড়াও থাকবে ১৬টি ব্যাগেজ বেল্ট। এই টার্মিনালকে ঘিরে এরইমধ্যে বিশ্বের ৩১টি এয়ারলাইনস কোম্পানি ঢাকা থেকে তাদের ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সাত অক্টোবর এই টার্মিনালের সফট লঞ্চিং বা আংশিক উদ্বোধনের আশা রয়েছে।
আরেক মেগা প্রকল্প পদ্মা রেলসেতু। অপেক্ষা ফুরোচ্ছে দক্ষিণের ট্রেন যাত্রীদের। এই রেল সেতুতে পাথর বিহীন রেললাইন প্রস্তুত। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে এই লাইন দিয়ে ছুটবে ট্রেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করবেন আগামী ১০ অক্টোবর। পদ্মা সেতুর মতোই এটির উদ্বোধনও হবে জমকালো।
উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম ধাপের পর এবার শুরু হচ্ছে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল। এর মধ্যদিয়ে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো পথে মেট্রো সুবিধা পেতে যাচ্ছে নগরবাসী। উত্তরা থেকে মাত্র ৪০ মিনিটেই মতিঝিল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাবেন যাত্রীরা।
২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল বা কর্ণফুলি টানেল। চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তলদেশের ১৮ দশমিক ৩১ মিটার গভীরে; দেশের প্রথম এই টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম শহরের সাথে আনোয়ারা উপজেলাকে যুক্ত করবে টানেলটি। টানেলের ভেতর থাকছে ৪ লেনের সড়ক।
এটি কেবল কর্ণফুলীর দুই পাড়কে যুক্ত করছে না বরং এর মাধ্যমে চীনের সাংহাই শহরের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউনের মডেলে গড়ে উঠবে শহর। ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর এটির উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
ঢাকার পূর্বাচলে দেশের প্রথম ১৪ লেনের মহাসড়ক। যার ৮টি এক্সপ্রেসওয়ে। এটিকে বলা হচ্ছে ঢাকার নতুন গেটওয়ে। নান্দনিক এই সড়ক ধরে তৈরি হচ্ছে নতুন স্যাটেলাইট নগর।
নির্বাচনের আগে প্রকল্পগুলো উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তি জানান দিতে চায় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, আমরা যতদূর জানি, জননেত্রী শেখ হাসিনা অক্টোবর মাসে তিনটি বিভাগে তিনটি সমাবেশ করবেন। এর ভেতর দিয়ে নির্বাচনমুখী জনগণকে আমরা নির্বাচনের দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবো।
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এ ধরনের মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন জাতির একটা উৎসবের বিষয়। এ কারণে আমরা প্রথাগত যে আনুষ্ঠানিকতা থাকে তার বাইরেও আমরা ব্যাপক সমাগমের মধ্যদিয়ে আমরা একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।
দলটির নেতারা বলছেন; অতীতের মতো আগামী নির্বাচনেও উন্নয়নের প্রতীক হবে নৌকা।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, ৭০ এর নির্বাচনে নৌকা যেমন ছিলো স্বাধীনতার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক। এবার নৌকার প্রতীক হলো, উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তির প্রতীক, শেখ হাসিনার প্রতীক।
জনকল্যাণে নেয়া এসব প্রকল্পের বিষয়ে জনগণকে জানাতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও সারাদেশে আলাদা জনসভা করবে।
একাত্তর/আরবিএস
বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে ভাবছে না আওয়ামী লীগ, লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন