টানেল যুগে প্রবেশের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালো। এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্টজনরা বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। তবে আসছে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করে বিশ্বে উদাহরণ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক সংশোধনের মাধ্যমে ভোটারদের সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ দিতে হবে।
শনিবার এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।
২৮ তারিখের পর কী হবে? এই প্রশ্ন তুলে গোল টেবিলে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বা সংঘাত যায় হোক জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নির্বাচন হতেই হবে।
আলোচনায় সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, হয়তো তারা কোনো একটা কিছুর অপেক্ষায় আছে। কেউ একটা মই দিতে পারে, কেউ একটু ধাক্কা দিতে পারে।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, তাদের অ্যাজেন্ডা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে ফেলে দেয়া, আওয়ামী লীগ সরকারকে ফেলে দেয়া। তারপর কী হবে তারা সেটি সঠিকভাবে বলতে পারেন না। সেটি যে সম্ভব না এভাবে, তারা হয়তো কেউ কেউ উপলব্ধি করেন।
বিশিষ্টজনরা অভিযোগ করেন অনেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যেগুলোর পুনর্গঠন জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, যদিও সহিংসতা তুলনামূলক কম। কিন্তু পলিটিক্স অব ফেয়ার বেড়েছে।
বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে নয়, নতুন ও প্রকৃত ভোটারদের ওপর আস্থা রেখেই নির্বাচন করতে হবে বলে আলোচনায় মত দেন বিশিষ্টজনরা।
এ বিষয়ে আর্টিকেল-১৯ এর সাবেক পরিচালক ফারুক ফয়সাল বলেন, এবছর অনেক নতুন ভোটার হবে। তাদের একটা বিশেষ ভূমিকা থাকবে যদি এ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হয়।
ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খান বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে বলতে চাই তাদের এখন জনগণের ভোটাধিকার সম্পূর্ণভাবে ফিরিয়ে দিতে হবে। ফিরিয়ে দেবো এ জন্য যে এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। কোনো বিতর্ক থাকবে না। সেটি করতে হলে সদিচ্ছা দরকার।
বৈঠকের সঞ্চালক এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, নির্বাচন এবং তৎপরবর্তী সবকিছুই আমরা একটা সংস্কারের মধ্যদিয়ে যাবো। তবে, বাংলাদেশের ইতিহাসে আজকের টানেলসহ যে অভূতপূর্ব অবকাঠামো বিস্ময় ঘটে গেলো, এগুলো শুধু অবকাঠামো নয়, শুধুই বিস্ময় নয়। এগুলো জাতি হিসেবে একেকটা ধাপ অতিক্রম।
একাত্তর/আরবিএস
